কলকাতা: তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের (I-PAC) সল্টলেকের অফিস এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে ইডির তল্লাশির ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার থেকেই সরগরম রাজ্য রাজনীতি৷ এদিন ইডির তল্লাশির মাঝেই প্রতীকের বাড়িতে ছুটে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তারপর সোজা চলে এসেছিলেন সেক্টর ফাইভে সংস্থার অফিসে৷ ‘নথি চুরির’ অভিযোগ এনে মমতা বলেছিলেন ‘এটা ক্রাইম’৷ কিন্তু, গতকাল মালদহে সভা করলেও এ নিয়ে সরাসরি একটাও শব্দ খরচ করতে দেখা যায়নি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে৷ অবশেষে, শুক্রবার এ বিষয়ে মৌন ভাঙলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড৷
advertisement
এদিন মতুয়াগড় তাহেরপুরের সভামঞ্চ থেকে অভিষেক বলেন, ‘‘আইপ্যাক বলে একটা সংস্থা আছে। যারা আমাদের হয়ে কাজ করছে। SIR-এ সাধারণ মানুষের হয়ে কাজ করছে। কেন করবে? তাই কাল আই প্যাকের অফিসে ইডি পাঠিয়েছে। তোমাদের কাছে সব আছে। আমাদের কাছে মানুষ আছে। ১০-০ গোলে হারবে।’’
আরও পড়ুন: মুখ দিয়ে গল গল করে ঝরছে রক্ত! গণবিক্ষোভের ‘মুখ’ এখন এই বৃদ্ধা, আগুন জ্বলছে ইরানে
অভিষেকের মন্তব্য, ‘‘আমাকে অনেকবার ইডি, সিবিআই ডেকেছে। আমার পরিবারের কাউকে ছাড়েনি। গলা কেটে দিলেও মাথা নীচু হবে না। এই শিরদাঁড়া বিক্রি নেই।’’
প্রসঙ্গত, শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়াতেও ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেন অভিষেক৷ যদিও, সেখানেও সরাসরি আইপ্যাক কাণ্ডের কোনও উল্লেখ করেননি তৃণমূল সাংসদ৷ এদিন X হ্যান্ডলে একটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ গণতন্ত্র শাস্তির মুখে। পুরস্কৃত অপরাধীরা। নির্বাচনে কারসাজি। ধর্ষকদের জামিন দেওয়া হয়। আর প্রতিবাদীদের পাঠানো হয় জেলে। এটাই বিজেপির নতুন ইন্ডিয়া।’
গত বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থা I-PAC -এর কর্ণধার প্রতীক জৈন এবং I-PAC -এর অফিসে হানা দেয় ইডি৷ বেলা ১২টা নাগাদ পুলিশ কমিশনার ও ডিসি সাউথকে সঙ্গে নিয়েই প্রতীকের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতেহাজির হন মমতা৷ বেরিয়ে আসেন একটি সবুজ ফাইল হাতে৷ অভিযোগ তোলেন, ‘‘ওরা আমার দলের সমস্ত নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করছিল! প্রার্থী তালিকা হাতানোর চেষ্টা করেছিল৷ আমি সেগুলো নিয়ে এসেছি। ওই জঘন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ! উনি দেশকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না! আমার দলের নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করাচ্ছেন! আমি প্রতীককে ফোন করেছিলাম। ও আমার দলের ইনচার্জ। ওরা হার্ডডিস্ক, ফোন সব নিয়ে নিচ্ছিল।’’
পরে I-PAC –এর অফিসেও যান মমতা৷ প্রতীক সেখানে না যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করেন৷ প্রতীক জৈন পৌঁছলে তিনি বেরিয়ে যান৷
