মেদিনীপুরের সভা থেকে এ দিন নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকেও খোঁচা দিয়েছেন অভিষেক৷ নেতাই কাণ্ডের প্রসঙ্গও টেনে আনেন তৃণমূল শীর্ষ নেতা৷ তিনি বলেন, এই মেদিনীপুর বীরেদের মাটি। ২০২০ সালে একজন গদ্দার সিবিআই-এর জেলযাত্রা আটকাতে অমিত শাহের পায়ে হাত দিয়ে বিজেপি যোগ দিয়েছিল। মেদিনীপুরে বিজেপি-র মডেল কী, নীচে সিপিএমের হার্মাদ, উপরে বিজেপি-র গদ্দার৷ এই মেদিনীপুরে গত ২৫-৩০ বছরে প্রথমে কংগ্রেস এবং পরে তৃণমূল তৈরি হওয়ার পর হাজার হাজার কর্মীদের কীভাবে সিপিএম অত্যাচার করেছে৷ আজকে বিজেপি-র নেতৃত্বে কারা রয়েছে?
advertisement
এই প্রসঙ্গেই পশ্চিম মেদিনীপুরে সিপিএম থেকে বিজেপি-তে যোগ দেওয়া বিভিন্ন পদাধিকারীদের নামও করেন অভিষেক৷ বিজেপি এবং সিপিএম-কে একযোগে আক্রমণ করে, অভিষেক বলেন, মেদিনীপুরের কোনও ওয়ার্ডে, কোনও বিধানসভায় বিজেপি লিড পেলে সিপিএমের হার্মাদদের অক্সিজেন দেওয়া হবে৷ যাঁরা ৩৪ বছর মানুষের উপরে অত্যাচার করেছে, তারা পরিবর্তন আনবে? বোতলটা নতুন, পুরনো মদ৷ শুধু জার্সিটা বদল হয়েছে৷ ২০১১ সালের আগে সিপিএমের হার্মাদরা হামলা চালিয়েছিল জেলায়। মানুষ রুখে দিয়েছিল। পরিবর্তনে এই জেলার ভূমিকা আছে। বাকি যে কটা হার্মাদ আছে তাদের বিদায় করতে হবে। আগে যারা সিপিএমের হার্মাদ ছিল, তারাই এখন বিজেপিতে। এদের ভোট দেওয়া মানে সিপিএমকে ভোট দেওয়া। শুধু জার্সি বদল হয়েছে৷ এই মেদিনীপুরই সিপিএমের অপশাসনের অবসান ঘটিয়েছিল৷
রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, সিপিএম অথবা বাম বিরোধী ভোটে যাতে বিজেপি থাবা না বসাতে পারে, সেই কারণেই এবার বাম এবং বিজেপি-কে একসারিতে বসিয়ে আক্রমণ শুরু করলেন অভিষেক৷
এ দিন মেদিনীপুরে গিয়ে ফের একবার ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়েও সরব হন অভিষেক৷ তিনি দাবি করেন, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য রাজ্য সরকার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে৷ অভিষেকের অভিযোগ, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়েও বিজেপি স্থানীয় বাসিন্দাদের ভুল বোঝাচ্ছে৷ অভিষেকের আশ্বাস, আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যেই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ শেষ হবে৷
