ওই ব্লকের বাবলা নদী ঘেঁষা গ্রামটি। বাসিন্দা প্রায় দুই হাজার। ভোটার রয়েছেন ১১০০ মত। মহিলার সংখ্যা প্রায় ৭০০জন। বাসিন্দাদের অধিকাংশ কৃষিকার্যের উপর নির্ভরশীল। তবে অনেকে ছোটখাটো ব্যবসাও করেন। বাসিন্দারা জানিয়েছেন, একসময় মহিলাদের কাজ ছিল সংসার সামলে স্বামীকে চাষের কাজে বা বাবলা নদীতে মাছ ধরতে সহযোগিতা করা। কিন্তু তিনবছর হল ওই দুটি কাজের সঙ্গে গ্রামের মহিলারা আরও একটি কাজে যুক্ত হয়েছেন। বালাপোষ নামের অল্প শীতের লেপ জাতীয় বস্ত্র তৈরি করছেন বছরভর। শীতের চারমাস মহিলাদের দম ফেলার ফুরসত থাকে না। এই অল্প শীতের বস্ত্র পাড়ি দিচ্ছে বহুদূরের গ্রাম থেকে শহরে। ওই গ্রামে গিয়ে দেখা গেল বালাপোষ তৈরি যেন গ্রামের কুটির শিল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে। কার্যত প্রতিটি বাড়িতে মহিলারা সুচ সুতো নিয়ে বালাপোষ তৈরি করছেন। কোথাও আবার কয়েকজন মহিলা একসঙ্গে কাজ করছেন। দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত মহিলারা এই কাজে ব্যস্ত থাকেন।
advertisement
গ্রামের অনিমা সরকার জানান, প্রায় ১২ থেকে ১৩ বছর ধরে এই কাজ করছি। প্রতিদিন তিনটে করে বালাপোষ তৈরি করতে পারি। আগে একটি বালাপোষ তৈরি করলে ৪০ থেকে ৫০ টাকা মজুরি পেতাম। এখন একটি বলাপোষ তৈরি করলে মজুরি পাওয়া যায় ৮০ টাকা করে। তবে শীতকালের মতো বছরের অন্য সময় কাজের এত চাপ থাকে না। অনিমা আরও জানান, কয়েকবছর এই কাজ করে টাকা জমিয়ে নিজের কোনও উদ্যোগ বানাতে চাই। প্রায় একই স্বপ্ন রয়েছে গ্রামের শঙ্করী সরকারের।
ব্যবসায়ী শ্রীবাস সরকার বলেন, গ্রামের প্রায় ৭০০ মহিলার মধ্যে সাড়ে ৬০০ মহিলা বালাপোষ তৈরি করছেন। কেউ কেউ মাসে সাত হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। বালাপোষ তৈরি হলে প্রতিবেশি গ্রাম ছাড়াও মালদহ, বীরভূমেও রফতানি করা হচ্ছে। প্রতিটি বালাপোষ সাড়ে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়ে থাকে।
প্রসঙ্গত, বালাপোষ তৈরির জন্য দুটি পুরনো সিল্কের শাড়িকে জোড়া দিয়ে লেপের খোলের আকার দেওয়া হয়। তার ভিতরে সিল্কের তুলো ঢুকিয়ে উপরে কাঁথার মতো সেলাই করে বালাপোষ তৈরি করা হয়। স্থানীয় সিজগ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান রাসমিনা বেগম বলেন, ওই গ্রামের মহিলারা আয়ের একটি নতুন পথ দেখাচ্ছেন। কুর্ণিশ জানাই পল্লিশ্রীর মহিলাদের।





