ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার (৫ মে) ভোররাতে গৌরিগঞ্জ থানার অন্তর্গত সারাই হৃদয় শাহ গ্রামে। জেলা সদর থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই গ্রামে ঘটে যায় ভয়ংকর এই কাণ্ড।
আরও পড়ুন: সীমা হায়দার-সচিন মীণা-এর বাড়িতে জোর করে ঢুকে গেল এক যুবক! জানালো, ‘কালো জাদুর টানে চলে এসেছি’
বিয়ের অনুষ্ঠানে খাবারের স্টলে তন্দুরি রুটি নেওয়া নিয়ে কনের আত্মীয় রোহিত, তার বন্ধু ও অন্যান্য অতিথিদের সঙ্গে আশীষ ও রবির কথা কাটাকাটি শুরু হয়। সেই কথাকাটাকাটি রাত ১টা নাগাদ সংঘর্ষে রূপ নেয়।
advertisement
রোহিত ও তার দল লোহার রড, হকি স্টিক এবং লাঠি হাতে আশীষ ও রবিকে তাড়া করে মারধর করে। সঙ্গে থাকা বন্ধুরা পালিয়ে গেলেও, আশীষ ও রবিকে ধরে ফেলে দলটি। রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করা হয় তাদের।
আরও পড়ুন: অর্ধেক বিছানা ভাড়া দিয়েই মালামাল মহিলা! মাসে ৫০ হাজার ডলার ইনকামে শুধু ‘কাডলিং’-এর অনুমতি আছে…
রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা দুই কিশোরকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে রেফার করা হয় AIIMS রায়বেরেলি এবং সেখান থেকে লখনউতে। তবে তার আগেই রবি মারা যায়, আর আশীষের মৃত্যু হয় পথেই।
নিহতদের পরিবারের দাবি, সামান্য রুটির জন্য এই নৃশংসতা তাদের জীবন তছনছ করে দিয়েছে। আশীষের বাবা শিব বাহাদুর বলেন, “আমার ছেলে একটা বিয়ে অনুষ্ঠানে গিয়েছিল, আর কখনো ফিরে এল না। শুধু কিছু রুটির জন্য আমাদের সন্তানদের এই পরিণতি?”
দুই কিশোরই ছাত্র ছিল, ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে বাঁচছিল। কিন্তু তুচ্ছ একটি ঘটনার কারণে সব কিছু শেষ হয়ে গেল।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় রোহিত ও তার দল মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে ৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি পাঁচজন অজ্ঞাতপরিচয়।
আমেঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হরেন্দ্র কুমার জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের ধরতে তল্লাশি চলছে। ইতিমধ্যে ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দাঙ্গা ও খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই ঘটনার পর গ্রামে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বিয়ের আনন্দ মুহূর্তে পরিণত হয়েছে এক করুণ অভিশাপে।
