TRENDING:

ধীরে ধীরে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে পেট্রোল পাম্পগুলি ! বিশ্বব্যাপী তীব্র জ্বালানি সঙ্কট দেখা দিলেও এতটুকু আঁচ পড়বে না এই দেশে

Last Updated:
যদিও এটাও সত্য যে, ওই দেশটির জ্বালানি ব্যবস্থা সবুজ শক্তি বা গ্রিন এনার্জির উপর এতটাই নির্ভরশীল যে, তাদের তেলের চাহিদা উল্লেখযোগ্য ভাবে হ্রাস পেয়েছে।
advertisement
1/6
ধীরে ধীরে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে পেট্রোল পাম্পগুলি ! বিশ্বব্যাপী তীব্র জ্বালানি সঙ্কট দেখা দিলেও এতটুকু আঁচ পড়বে না এই দেশে
ইরান এবং ইজরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেল ও গ্যাসের তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এর জেরে সমস্যার মুখে পড়েছে বেশ কিছু দেশ। তবে ভারতও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে অনেকেই হয়তো জানেন না যে, পৃথিবীতে এমন একটি দেশ আছে, যেখানে তেলের সঙ্কট হলেও তা দেশের উপর প্রভাব পড়বে না। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তেল ছাড়াই কাজ চালিয়ে দিতে পারবে সেই দেশটি। অর্থাৎ জ্বালানি তেল ছাড়াই সেই দেশ বেশিরভাগ জ্বালানি চাহিদা সহজেই পূরণ করে নিতে পারে। তবে একেবারেই তেল ব্যবহার হয় না, এমনটা একেবারেই নয়। (Representative/AI Image)
advertisement
2/6
যদিও এটাও সত্য যে, ওই দেশটির জ্বালানি ব্যবস্থা সবুজ শক্তি বা গ্রিন এনার্জির উপর এতটাই নির্ভরশীল যে, তাদের তেলের চাহিদা উল্লেখযোগ্য ভাবে হ্রাস পেয়েছে। ফলে সেখানকার পেট্রোল পাম্পগুলিও ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আর সেই দেশটির নাম হল আইসল্যান্ড। এটি পৃথিবীর এমন একটি অংশে অবস্থিত, যেখানে তীব্র তাপ এবং আগ্নেয়গিরির গতিবিধি পরিলক্ষিত হয়। সেই কারণে ভূগর্ভস্থ জল থেকে নির্গত বাষ্প এবং গরম জল বিদ্যুৎ উৎপাদন করে এবং তাপ সরবরাহ করে। আইসল্যান্ডে অসংখ্য হিমবাহ নদী রয়েছে, যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে জলবিদ্যুৎও উৎপাদন করে। এই কারণগুলির জেরে এর বিদ্যুতের প্রায় ১০০ শতাংশকেই গ্রিন এনার্জি বলে বিবেচনা করা হয়। (Representative/AI Image)
advertisement
3/6
ভূগর্ভস্থ গরম জল সরাসরি পাইপ দিয়ে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়, তাই জল গরম করার জন্য তেল প্রায় ব্যবহার করা হয় না বললেই চলে। আইসল্যান্ডের বিদ্যুৎ উৎসের ৭০ শতাংশ জলবিদ্যুৎ এবং ৩০ শতাংশ ভূ-তাপীয়। সেই কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আইসল্যান্ডের কয়লা বা তেলের প্রয়োজন হয় না। আইসল্যান্ডকে প্রায়শই গ্রিন এনার্জির মডেল হিসেবে ধরা হয়। ভূ-তাপীয় শক্তিকে কীভাবে কাজে লাগাতে হয়, সেটা আইসল্যান্ডের কাছ থেকে শেখে বহু দেশই। এমনকী এ-ও বলা হয় যে, যদি পৃথিবীর তেল হঠাৎ শেষও হয়ে যায়, তাহলে আইসল্যান্ড পরিবহণের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে। কিন্তু এর বাকি এনার্জি সিস্টেম চালুই থাকবে। বর্তমানে এখানকার ৪০ শতাংশ যানবাহনই ইভি। তাই দেশটি মূলত সঙ্কটকালীন সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারবে। আবার আইসল্যান্ডের জনসংখ্যা মাত্র ৩,৮০,০০০। (Representative/AI Image)
advertisement
4/6
এখানে প্রচুর গরম জল এবং বাষ্প রয়েছে, অসংখ্য হিমবাহের নদী রয়েছে এবং প্রকৃতি নিজেই এই দেশকে ভূ-তাপীয় শক্তির এক বিশাল সম্পদ দিয়ে সজ্জিত করেছে। যেহেতু এই দেশের কাছে সীমাহীন এবং সস্তা ভূ-তাপীয় শক্তির সম্পদ রয়েছে, তাই তারা সারা বছর বড় বড় গ্রিনহাউসে শাকসবজি এবং ফল চাষ করতে পারে, সে বাইরে যত ঠান্ডাই থাকুক না কেন! ফলে বোঝাই যাচ্ছে যে, তেলের ঘাটতি সে দেশের কৃষিতে ততটা প্রভাব ফেলবে না। তবে এই দেশ শুধুমাত্র সার এবং ট্রাক্টরের জন্যই তেলের উপর নির্ভরশীল দেশগুলির উপর নির্ভর করবে। আইসল্যান্ডও এমন একটি দেশ, যেখানে পেট্রোল স্টেশনগুলি ধীরে ধীরে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। সরকার এবং জ্বালানি সংস্থাগুলি ধীরে ধীরে তাদের গুরুত্ব কমিয়ে আনছে। পেট্রোল স্টেশনগুলির জায়গায় বরং ইভি চার্জিং নেটওয়ার্কগুলি দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। আবার এখানে রাস্তাঘাটের নেটওয়ার্কও সীমিত। যার ফলে চার্জিং নেটওয়ার্ক তৈরি করা তুলনামূলক ভাবে সহজ হয়ে উঠেছে।(Representative/AI Image)
advertisement
5/6
এদিকে আবার আইসল্যান্ডের চার্জিং নেটওয়ার্ক সিস্টেমটিও বেশ সুসংগঠিত। দেশের প্রতিটি রাস্তায় প্রতি ৫০-১০০ কিলোমিটার দূরে ফাস্ট চার্জিং স্টেশন রয়েছে। যার ফলে দূরবর্তী স্থানে ভ্রমণ সম্ভব হচ্ছে। অনেক পুরনো পেট্রোল পাম্পকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রেও রূপান্তরিত করা হচ্ছে। আবার পর্যটন আইসল্যান্ডের একটি প্রধান শিল্প। হোটেল, গেস্ট হাউজ এবং শপিং সেন্টারগুলিতে প্রায়শই ইভি চার্জার পাওয়া যায়। যার ফলে পর্যটকরা রাতারাতি নিজেদের গাড়ি চার্জ করার সুযোগ পান। (Representative/AI Image)
advertisement
6/6
এখানে বিদ্যুৎও সস্তা। বেশির ভাগ বাড়িই স্বাধীন। তাই অনেকেই বাড়িতে রাতভর গাড়ি চার্জ করে নিতে পারেন। চার বছরের মধ্যে সেখানে কোনও পেট্রোল বা ডিজেল গাড়ি থাকবে না; সেগুলি পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে দেওয়া হবে। তবে মাছ ধরার জাহাজ, দূরপাল্লার ট্রাক, বিমান এবং দূরবর্তী স্থানে ভ্রমণকারী গ্রামীণ যানবাহন এখনও পেট্রোলের মাধ্যমে চলে। এই সমস্ত কারণে আইসল্যান্ড বিশ্বের সেই দেশগুলির মধ্যে অন্যতম, যেখানে তেল হঠাৎ করে শেষ হয়ে গেলেও দেশের জ্বালানি ব্যবস্থা চালু থাকবে। কারণ সেই দেশের বিদ্যুৎ এবং রান্নাঘরের জ্বালানি ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ রূপে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পাওয়া যাচ্ছে। আইসল্যান্ড জনসংখ্যার দিক থেকে তুলনামূলক ভাবে ছোট। কিন্তু এর মোট আয়তন ১০৩,০০০ বর্গ কিলোমিটার (৩৯,৭৬৮ বর্গমাইল)। এর ফলে আইসল্যান্ড বিশ্বের ১৮-তম বৃহত্তম দ্বীপ এবং গ্রেট ব্রিটেনের পরে ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপে পরিণত হয়েছে। (Representative/AI Image)
বাংলা খবর/ছবি/পাঁচমিশালি/
ধীরে ধীরে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে পেট্রোল পাম্পগুলি ! বিশ্বব্যাপী তীব্র জ্বালানি সঙ্কট দেখা দিলেও এতটুকু আঁচ পড়বে না এই দেশে
Open in App
হোম
খবর
ফটো
লোকাল