গোটা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেওয়া এই গরুটির নাম ভেরোনিকা৷ অস্ট্রিয়ার একটি শান্ত গ্রামের বাসিন্দা সে৷ ব্রাশ দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশ চুলকানোর ভেরোনিকার ভিডিও গোটা বিশ্বেই ভাইরাল হয়েছে৷
তবে ভেরোনিকার বুদ্ধি দেখে তাজ্জব বনে গিয়েছেন বিজ্ঞানী এবং প্রাণীবিদরা৷ কারণ পীঠের যে অংশে ঘন লোমের আস্তরণ রয়েছে, সেখানে চুলকোতে একটি লাঠির মাথায় লাগানো ব্রাশ ব্যবহার করে সে৷ আবার যখন তুলনামূলক নরম জায়গাগুলি চুলকানোর প্রয়োজন হয় তখন ব্রাশের সঙ্গে লাগানো লাঠি ব্যবহার করে ভেরোনিকা৷ রীতিমতো নিজের মুখ দিয়ে শক্ত করে লাঠি অথবা ব্রাশের একদিক ধরে আরাম করে শরীরের যে কোনও অংশ চুলকোতে পারে ভেরোনিকা৷
advertisement
কারেন্ট বায়োলজি জার্নাল-এ ভিয়েনার ইউনিভার্সিটি অফ ভেটেনারি মেডিসিন-এর বিজ্ঞানীদের একটি গবেষণা রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে৷ সেই গবেষণায় বিজ্ঞানীরা একমত হয়েছেন, যেভাবে ভেরোনিকা ওই লাঠি ব্যবহার করছে তার জন্য যে কোনও ছোট যন্ত্র বা মেশিন ব্যবহারের মতোই বুদ্ধি প্রয়োজন৷ মানুষের সঙ্গে প্রায় ১০ হাজার বছর ধরে গবাদি পশু সহাবস্থান করছে৷ কিন্তু এর আগে কোনওদিন কোনও গরুর এমন আচরণ বৈজ্ঞানিক ভাবে কোথাও নথিবদ্ধ নেই৷
ওই গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, গরুদের আসলে যতটা বোকা মনে করা হয় তারা তার থেকে অনেক বেশি বুদ্ধিমান৷ ওই বিজ্ঞানীদের আরও দাবি, ভাল পরিবেশে থাকলে অন্যান্য গরুরাও ভেরোনিকার মতোই বুদ্ধির ঝলক দেখাতে পারে৷
ভেরোনিকার এই আচরণ প্রথম লক্ষ্য করেন অ্যালিস আউয়ার্সবার্গ নামে একজন প্রাণীবিদ৷ প্রাণীদের মধ্যে ছোটখাটো যন্ত্রের ব্যবহার নিয়ে একটি বই লেখেন তিনি৷ তার পর থেকে অনেকেই ই মেল করে অ্যালিসকে জানান, তাদের পোষ্যদের মধ্যে অনেকেও একই ধরনের আচরণ করে৷ কিন্তু এসবের মধ্যে একটি ই মেলে চোখ আটকে যায় ওই প্রাণীবিদের৷ সেই ই মেলে একটি গরুর ভিডিও ছিল৷ সেখানে দেখা যায়, গরুটি ব্রাশ দিয়ে নিজের পিঠ চুলকোচ্ছে৷ সেই গরুটিই ছিল ভেরোনিকা৷
এর পরই নিজের এক সতীর্থকে নিয়ে ভেরোনিকার বাসস্থানে পৌঁছন অ্যালিস৷ সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন, অসাধারণ পরিবেশ এবং ততোধিক যত্নে ভেরোনিকাকে ১৩ বছর ধরে লালন পালন করছেন তার মালিক৷ ভেরোনিকা যে গ্রামে থাকে তার চারপাশে সবুজ চারণভূমি রয়েছে৷ ভেরোনিকা যেখানে চড়ে বেড়ায় তার চারপাশে অসংখ্য লাঠি পড়ে থাকে৷ আবার ওই অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে এক বিশেষ ধরনের পোকার উপদ্রব হয়৷ সম্ভবত সেই পোকার কামড় থেকে শরীরে চুলকুনি শুরু হওয়ার পর নিজের মতো করে তার সমাধান বের করে নিয়েছে ভেরোনিকা৷
ভেরোনিকা নিজে থেকেই ওই লাঠি ব্যবহার করছে কি না তা দেখতে তার সামনে ওই ব্রাশ লাগানো লাঠি রেখে দেন অ্যালিস৷ তাঁদের অবাক করে দিয়ে ভেরোনিকা দিব্যি নিজের জিভ দিয়ে প্রথমে সেই লাঠি পেঁচিয়ে তার পর মুখ দিয়ে কামড়ে শরীরের বিভিন্ন অংশ চুলকোতে শুরু করে৷
ভেরোনিকার মালিক জানিয়েছেন, তিন বছর বয়স থেকেই শরীর চুলকোতে লাঠির ব্যবহার শুরু করে ভেরোনিকা৷ এর পর গত এক দশকে লাঠির ব্যবহারে আরও দক্ষ হয়ে উঠেছে সে৷ বিজ্ঞানীদের দাবি, সময় এবং যথাযথ পরিবেশ পেলে অন্যান্য গরুরাও প্রত্যাশার থেকেও বেশি আরও অনেক বেশি কিছু করে দেখাতে পারে৷
