ডেলিভারি কর্মী নারীর সঙ্গে কথা বলে তাঁর মানসিক অবস্থার খোঁজ নেন। যদিও ওই নারী আত্মহানির কোনও উদ্দেশ্য অস্বীকার করেন, তবু সন্দেহ উড়িয়ে দেননি তিনি। সহানুভূতির সঙ্গে কথা বলে তাঁকে নিজেকে ক্ষতি না করার অনুরোধ জানান। জানান, জীবনের মূল্য অপরিসীম এবং খারাপ সময় চিরস্থায়ী নয়।
বন্দে ভারত স্লিপার কোন কোন জেলার উপর দিয়ে যাবে? কত ভাড়া? পশ্চিমবঙ্গের রেল পরিকাঠামোয় বড় সংযোজন
advertisement
তেলে ভরপুর ভেনেজুয়েলা, তবু মুদ্রা এত দুর্বল কেন? জেনে নিন, সেখানে ১০ হাজার ভারতীয় টাকার মূল্য কত?
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ডেলিভারি কর্মী অর্ডার বাতিল করেন এবং ইঁদুর মারার বিষ সঙ্গে নিয়ে ফিরে যান। পরে এই অভিজ্ঞতার কথা তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন। সেই ঘটনার পর থেকেই নেটমাধ্যমে প্রশংসার বন্যা বয়ে যায়।
ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে ডেলিভারি কর্মী জানান, তিন প্যাকেট ইঁদুর মারার বিষের অর্ডার দেখে তাঁর সন্দেহ হয়। রাতের এই সময় এমন অর্ডার কেন—তা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে তাঁর মনে। দরজায় পৌঁছে নারীর কান্না দেখে তিনি স্পষ্টভাবে তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, আত্মহানির উদ্দেশ্যেই কি এই অর্ডার। যদিও নারী তা অস্বীকার করেন, ডেলিভারি কর্মী যুক্তি দেন, যদি ইঁদুরের সমস্যা থাকত, তাহলে এত রাতে অর্ডার করার প্রয়োজন ছিল না। শেষ পর্যন্ত তিনি তাঁকে বোঝাতে সক্ষম হন এবং অর্ডার বাতিল করেন। তাঁর কথায়, সেদিন তিনি মনে করেন, জীবনে সত্যিই কিছু ভাল কাজ করতে পেরেছেন।
এই ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় বহু মানুষ ডেলিভারি কর্মীর মানবিকতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন। কেউ লিখেছেন, “একটা রোবট হলে শুধু অর্ডার পৌঁছে দিত।” আবার কেউ মন্তব্য করেছেন, “অ্যালগরিদম বলেছিল ডেলিভার করো, কিন্তু বিবেক বলেছিল থামো।” অনেকেই একে নিছক পরিষেবা প্রত্যাখ্যান নয়, বরং মানবতার জয় বলে উল্লেখ করেছেন।
একাধিক ব্যবহারকারী Blinkit-এর কর্তৃপক্ষকে ট্যাগ করে ওই ডেলিভারি কর্মীকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত করার দাবি তুলেছেন। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ব্লিঙ্কিটের তরফে কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। ঘটনাটি ঘটেছে তামিলনাড়ুতে এবং ডেলিভারি কর্মী নিজে এই অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন Instagram-এ।
