রুবেন সিং-এর গাড়ির সংগ্রহ
ব্রিটিশ-শিখ বিলিওনিয়র রুবেন সিং-এর গাড়ির সংগ্রহ বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল ব্যক্তিগত গ্যারেজগুলোর মধ্যে একটি। তিনি অলডেপিএ (গ্রাহক পরিষেবা সংস্থা) এবং ইশার ক্যাপিটাল (প্রাইভেট ইক্যুইটি ফার্ম)-এর সিইও। তার আনুমানিক মোট সম্পদের পরিমাণ ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি। তার ১৫টিরও বেশি রোলস-রয়েস রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ১০০ কোটি টাকারও বেশি (প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার)। প্রতিটি গাড়ি তাঁর পাগড়ির রঙের সঙ্গে মিলিয়ে বিশেষভাবে কাস্টমাইজ করা হয়েছে।
advertisement
রুবেন সিং-এর গাড়ির সংগ্রহ
রুবেনের গাড়ির বহরের সবচেয়ে এক্সক্লুসিভ গাড়িটি হল ফ্যান্টম VIII, যার দাম ভারতে এক্স-শোরুম মূল্য অনুযায়ী প্রায় ৯.৫০ কোটি টাকা থেকে শুরু। এতে রয়েছে একটি ৬.৭৫-লিটার V12 টুইন-টার্বো ইঞ্জিন যা ৫৬৩ বিএইচপি শক্তি উৎপন্ন করে। এর অন্যতম আকর্ষণ হলো ‘ম্যাজিক কার্পেট রাইড’ এয়ার সাসপেনশন, যা রাস্তার গর্তের প্রভাব কমিয়ে দেয়।
রুবেন সিং-এর গাড়ি
তাঁর সংগ্রহে রোলস-রয়েস কুলিনানের বিভিন্ন রঙের মডেল রয়েছে। ভারতে এই SUV-টির দাম প্রায় ৭ কোটি টাকা (প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার)। এটি মাত্র ৫.২ সেকেন্ডে ০ থেকে ১০০ কিমি/ঘণ্টা গতি তুলতে পারে। এতে একটি ‘এভরিহোয়্যার’ বাটন রয়েছে যা এক ক্লিকেই গাড়িটিকে দুর্গম পথের জন্য প্রস্তুত করে তোলে।
রুবেন সিং-এর গাড়ির সংগ্রহ
রুবেনের তিনটি এক্সক্লুসিভ কুলিনান এবং ফ্যান্টম গাড়িকে ‘জুয়েল কালেকশন’ বলা হয়। রুবি (লাল), স্যাফায়ার (নীল) এবং এমারাল্ড (সবুজ) রঙে রাঙানো এই তিনটি গাড়ির সম্মিলিত মূল্য ২৫ কোটি টাকারও বেশি। এই গাড়িগুলোর বাইরের রঙের কাজ করতে কয়েক মাস সময় লাগে এবং এতে লাখ লাখ টাকা খরচ হয়।
রুবেন সিং-এর গাড়ির সংগ্রহ
এই গাড়িগুলোর ভেতরের অংশ রাজকীয়। এতে রয়েছে একটি স্টারলাইট হেডলাইনার, যার ছাদে ১,৩০০-এরও বেশি ফাইবার-অপটিক লাইট রয়েছে, যা রাতের আকাশের মতো একটি আবহ তৈরি করে। রুবেনের গাড়িগুলোতে চামড়ার সিট এবং তাঁর পাগড়ির রঙের সঙ্গে মিলিয়ে হাতে তৈরি কাঠের ড্যাশবোর্ড রয়েছে, যা গাড়িগুলোকে অনন্য করে তুলেছে।
রুবেন সিং-এর গাড়ির সংগ্রহ
একটি রোলস-রয়েসের বেস প্রাইস হল প্রাথমিক মূল্য, কিন্তু রুবেন সিং শুধুমাত্র কাস্টমাইজেশনের জন্যই লাখ লাখ টাকা খরচ করেছেন। তাঁর সিগনেচার রঙগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে “সিং জুস”। কোচলাইন (হাতে আঁকা লাইন) থেকে শুরু করে চাকার সেন্টার ক্যাপ পর্যন্ত সবকিছুই তাঁর পছন্দ অনুযায়ী ডিজাইন করা।
রুবেন সিং-এর গাড়ির সংগ্রহ
বিশাল আকার এবং বিলাসবহুল হওয়া সত্ত্বেও, এই গাড়িগুলো পারফরম্যান্সে সুপারকারের সঙ্গে পাল্লা দেয়। এই ১২-সিলিন্ডার ইঞ্জিনগুলোর নীরবতা এতটাই যে, কেবিনের ভেতরে সূচ পড়ার শব্দও শোনা যায়। এটি সেই নিখুঁত ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একটি প্রমাণ, যা রুবেন তাঁর গর্বের বিষয় করে তুলেছেন।
আরও পড়ুন- বেঙ্গালুরু ভূমি সঙ্কট: এমব্যাসি ডেভেলপমেন্টসকে ৩০ দিনের মধ্যে KIA-র ৭৮ একর জমি ফেরত দেওয়ার নির্দেশ
রুবেন সিং-এর গাড়ির সংগ্রহ
আজ, রুবেন সিং-এর গ্যারেজ শুধু একটি গাড়ির সংগ্রহ নয়, বরং একটি অটোমোটিভ ঐতিহ্য। এই গল্পটি প্রমাণ করে যে, এই ধরনের শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমেও একটি অপমানের প্রতিশোধ নেওয়া যায়।
