ঘটনাটি ২০১৪ সালের ৮ এপ্রিলের। মুম্বইয়ের গোবন্দি এলাকার বাসিন্দা ২৩ বছর বয়সি সলমান বাবের শাহ একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হন। তাঁর ডান উরুর হাড় ভেঙে যায়। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে গোবন্দির একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করেন যে আঘাত গুরুতর নয় এবং তিনি শীঘ্রই সুস্থ হয়ে উঠবেন।
advertisement
তবে অস্ত্রোপচারের পর হঠাৎই সলমানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। অবস্থার দ্রুত অবনতি দেখে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সব রকম চিকিৎসা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত ২০১৪ সালের ১৭ এপ্রিল তাঁর মৃত্যু হয়। চিকিৎসকদের মতে, মৃত্যুর কারণ ছিল সেপটিসেমিয়া, অর্থাৎ রক্তে সংক্রমণজনিত গুরুতর অসুখ।
ছেলের মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারেননি মা নাসিম বানু বাবের শাহ। তিনি চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, অত্যন্ত খারাপ পরিস্থিতিতে অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল– এমনকী বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল ফোনের টর্চ জ্বালিয়ে অপারেশন চালানো হয়, যা তিনি চরম গাফিলতি বলে উল্লেখ করেছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, চিকিৎসার সময় প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ছিল না এবং সালমানের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে পরিবারকে ভুল তথ্য দেওয়া হয়। বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্র তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়নি বলেও দাবি তাঁর। এর ফলে তাঁর সন্দেহ হয়, গুরুত্বপূর্ণ নথি ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন রাখা হয়েছে বা নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: উড়ানের পরেই যাত্রীর মৃত্যু, ১৩ ঘণ্টা মৃতদেহ-সহ আকাশপথে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা যাত্রীদের!
ছেলের মৃত্যুকে মেনে নিতে না পেরে নাসিম ন্যায়বিচারের জন্য সব রকম আইনি পথ অনুসরণ করেন। তিনি একাধিকবার পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন, তথ্য জানার জন্য আরটিআই আইনের আওতায় আবেদন করেন এবং শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেন। দীর্ঘ এই আইনি লড়াইয়ে বহু বাধার সম্মুখীন হলেও তিনি হাল ছাড়েননি। আদালতের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতেও বাধ্য করা হয়।
অবশেষে বছরের পর বছর লড়াইয়ের পর পুলিশ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। এই পদক্ষেপকে মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা দায়বদ্ধতার আশার আলো জাগাচ্ছে। তবে এই অগ্রগতির মাঝেও ছেলের অভাব কখনও পূরণ হওয়ার নয়। নিজের লড়াই সম্পর্কে নাসিম বলেন, “আমার ছেলে আর ফিরে আসবে না, কিন্তু আমি লড়ছি যাতে আর কোনও মায়ের সন্তানের সঙ্গে এমন না ঘটে।” নাসিমের এই অদম্য লড়াই শুধু ব্যক্তিগত ন্যায়বিচারের দাবি নয়, বরং চিকিৎসা ব্যবস্থায় দায়বদ্ধতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বৃহত্তর প্রশ্নও সামনে নিয়ে আসে।
