সন্দেহ করা হচ্ছে, নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের ঘোঘরাগাছি গ্রাম নিপার উৎস৷ প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষা এই গ্রাম থেকেই ছড়িয়েছে এই মারণ ভাইরাস৷ কল্যাণী এইমস-এর পক্ষ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে৷ সেখানেই এই আশঙ্কার কথা প্রকাশ করা হয়েছে৷
সীমান্তের অপর পারে বাংলাদেশের চুয়াডাঙা এবং কিছুটা দূরেই কুষ্টিয়া৷ গত বেশ কিছুদিন ধরেই এই এলাকাগুলোতে নিপার বাড়বাড়ন্ত৷ ইনফ্রা রেড ক্যামেরায় ধরা পড়েছে এই এলাকায় বাদুরের খেজুরের রস খাওয়ার ঘটনা৷
advertisement
গত মাসের ১৫ ডিসেম্বর বারাসতের বেসরকারি হাসপাতালের নিপা আক্রান্ত নার্স পারিবারিক বিয়ের অনুষ্ঠানের যোগ দিতে যান সীমান্তঘেঁষা এই ঘোঘরাগাছি গ্রামে গিয়েছিল৷ আশঙ্কা করা হচ্ছে ওখানেই কাঁচা খেজুরের রস পান করেন এই নার্স৷
এই সময় ফলখেকো বাদুড়ের প্রিয় খাদ্য খেজুরের রস৷ এই রস খাওয়ার সময় মল ত্যাগ করে বাদুড় ৷ এই রস থেকেই মানুষের শরীরে সংক্রামিত হয় নিপা ভাইরাস৷
রাজ্যে নিপা ভাইরাস আক্রান্তের ঘটনা সম্পর্কে গত সোমবার সাংবাদিক বৈঠক করে জানান রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী৷ বলেন, ”এই ভাইরাস বাদুড় থেকে আসে, আপনারা জানেন। তাই বাদুড় যা খায়, সেই গুলির বিষয়ে সচেতন থাকবেন।” মুখ্যসচিব জানিয়েছেন, এ বিষয়ে হেল্পলাইন খোলা হয়েছে। নম্বরগুলি হল ০৩৩২৩৩৩০১৮০ এবং ৯৮৭৪৭০৮৮৫৮। শুধু তাই নয়, ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং-এর কাজ শুরু হয়েছে। মুখ্যসচিব জানিয়েছেন, ওই দুই আক্রান্ত পূর্ব বর্ধমানে গিয়েছিলেন। দুজন নার্সের ধরা পড়েছে এই ভাইরাস।
ঘটনার পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা৷ সবরকমের সাহায্যের আশ্বাস দেন৷ দিল্লি থেকে পাঠানো হয় বিশেষজ্ঞ দল৷
কী এই নিপা ভাইরাস? বাদুড় থেকে তা কী ভাবে ছড়ায় মানুষের মধ্যে? নিপা ভাইরাস বাদুড় থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায় দূষিত খাবারের মাধ্যমে (যেমন কাঁচা খেজুরের রস বা বাদুড়ের মূত্র/লালাযুক্ত ফল), সংক্রামিত প্রাণির (বাদুড়, শূকর ইত্যাদি) সাথে সরাসরি যোগাযোগ বা তাদের তরল পদার্থ (রক্ত, লালারস) থেকে সংক্রমিত হয়৷
একবার কোনও ব্যক্তি সংক্রমিত হলে, ভাইরাসটি তার শারীরিক তরলের (শ্বাসযন্ত্রের ফোঁটা, প্রস্রাব, রক্ত) ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমে অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এটি প্রায়শই পরিবারের সদস্য এবং স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের ক্ষেত্রে ঘটে।
বাদুড় তাদের প্রস্রাব, লালা এবং মলের মাধ্যমে ভাইরাস নির্গত করে। সংক্রমিত বাদুড় দ্বারা দূষিত ফল বা কাঁচা খেজুরের রস খেলে মানুষ সংক্রমিত হয়।বাদুড় প্রায়শই আংশিকভাবে খাওয়া ফল ফেলে দেয়, যা অন্যান্য প্রাণী বা মানুষ খেতে পারে, যার ফলে ভাইরাস ছড়ায়।
লক্ষণ কী কী? প্রাথমিক লক্ষণে জ্বর, মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট, কাশি এবং গলা ব্যথা হতে পারে৷ ডায়ারিয়া, বমি, পেশী ব্যথা এবং তীব্র দুর্বলতাও এর লক্ষণ৷ ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার চার থেকে ১৪ দিনের মধ্যে লক্ষণগুলি সাধারণত শুরু হয়। প্রথমে জ্বর বা মাথাব্যথা এবং পরে কাশি এবং শ্বাসকষ্টের মতো শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দেয়। গুরুতর ক্ষেত্রে, ব্যক্তির মস্তিষ্কের সংক্রমণ (এনসেফালাইটিস) হতে পারে, যাতে মৃত্যুর সম্ভাবনা থাকে৷ নিপা ভাইরাসের মৃত্যু হার বেশ বেশি৷ ৪০-৭৫%৷ এই ভাইরাস রোগীর স্নায়ুতন্ত্রে মারাত্মক খারাপ প্রভাব ফেলে৷
কাঁচা খেজুরের রস বা পশুর কামড়ের লক্ষণ আছে এমন ফল খাওয়া এড়িয়ে চলুন। ফল ভাল করে ধুয়ে রস ফুটিয়ে নিন। বাদুড় এবং অসুস্থ শূকরের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন। বিশেষ করে সংক্রমিত ব্যক্তিদের যত্ন নেওয়ার পর, ভাল স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।
