ঘটনাটি ঘটে IndiGo-র মুম্বই–ক্রাবি রুটের একটি উড়ানে। যাত্রীদের দাবি, অপারেশনাল সমস্যার কারণে টেক-অফে দেরি হচ্ছিল। পরে জানা যায়, পাইলটের ডিউটির নির্ধারিত সময় প্রায় শেষ হয়ে আসছিল। যদিও বিষয়টি আগেই এয়ারলাইনের কাছে জানানো হয়েছিল, ততক্ষণে যাত্রীদের বোর্ড করিয়ে ফেলা হয়। দীর্ঘ অপেক্ষার ফলে বিমানের ভিতরে উত্তেজনা ছড়ায়।
এই ঘটনার ভিডিও সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করেন লেখক তারুণ শুক্ল। ভিডিওটি X- হ্যান্ডলে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। ফুটেজে দেখা যায়, যাত্রীদের একাংশ আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে চিৎকার করছেন, কেবিন ক্রুদের উদ্দেশে অশালীন ভাষা ব্যবহার করছেন এবং সামনের এল১ এক্সিট ডোরে লাথি মারছেন। স্লোগান দেওয়া হয় ‘ইন্ডিগো হায় হায়’। এক মহিলা যাত্রীকেও চিৎকার করে আপত্তিকর মন্তব্য করতে শোনা যায়। কেউ বলেন ‘ইঁদুরের মতো লুকিয়ে আছে কেন পাইলট ব্যাটা?’ তবে এই পুরো সময় জুড়ে একমাত্র কেবিন ক্রু সদস্য শান্ত থেকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।
ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর পাইলট বিজয় হিরেমাথ যাত্রীদের আচরণ তীব্র ভাষায় নিন্দা করেন। তিনি বলেন, টিকিট কাটা মানেই বিশৃঙ্খলা করার বা নিরাপত্তা বিপন্ন করার অধিকার পাওয়া নয়। তাঁর মতে, ভারতীয় পাইলট ও কেবিন ক্রুদের আরও শক্ত কর্তৃত্ব থাকা প্রয়োজন এবং এ ধরনের আচরণের ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতা নীতি জরুরি। তাঁর মন্তব্য, বিমান কোনও বাসস্ট্যান্ড নয়।
সমাজমাধ্যমে বহু ব্যবহারকারীও যাত্রীদের আচরণের সমালোচনা করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন, দেরি হওয়া নিঃসন্দেহে বিরক্তিকর, কিন্তু গালাগালি বা হিংসাত্মক আচরণ পরিস্থিতি আরও খারাপ করে। আবার অনেকে মত দিয়েছেন, এ ধরনের যাত্রীদের ‘নো-ফ্লাই লিস্ট’-এ তোলা উচিত।
ঘটনাটি ফের প্রশ্ন তুলে দিল, বিমানযাত্রায় দেরি হলে যাত্রীদের অসন্তোষ কী ভাবে নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে এবং কেবিন ক্রুদের সুরক্ষায় কঠোর নীতি কতটা প্রয়োজন।
