২০১৭ সালে পাহাড়ের অশান্তির পরে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে যায় গোর্খা জনমুক্তি শিবির। বিমল সঙ্গ ত্যাগ করেন বিনয়-অনীত। বিনয়-অনীত এবার বিমল ও বিজেপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে হাজির। তবে বিমলের মতো এই বিনয়-অনীত শিবির'ও এই ভোটে সমর্থন জুগিয়েছে তৃণমূলকে। ফলে পাহাড়ের ৩ আসনে কোথাও জোড়াফুল শিবির তাদের পতাকায় কোনও প্রার্থী দেয়নি। তবে বিনয় শিবির হোক বা বিমল শিবির, যেই জিতুক না কেন তারা তৃণমূলকে সরকার গঠনের আশ্বাস দিয়েছে। তবে এই ভোটে অপর উল্লেখযোগ্য ঘটনা হল, দীর্ঘদিন পরে বিজেপি নিজের পতাকায় পাহাড়ের তিন আসনে প্রচার চালিয়ে গেছে। সব মিলিয়ে জমজমাট এবার পাহাড়ের তিন আসনের ভোট। ২০১৭ সালের পাহাড়ের অশান্তির জেরে অভিযোগ হয় পি টি ওলা'র নামে। গুরুগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয় তাকে। এই পি টি ওলা ছিলেন জি টি এ'র সভাসদ। যদিও সেই পি টি ওলা'র তদন্ত, মামলা এখন ঠান্ডা ঘরে। সেই পি টি ওলা এবার পাহাড়ে বিমল পন্থী শিবিরের প্রার্থী।
advertisement
২০১১ সালের ভোটে দার্জিলিং থেকে জিতেছিলেন তিলোক দেওয়ান। ২০১৬ সালের ভোটে এই আসন থেকে জেতেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার অমর সিং রাই। যদিও পাহাড় জুড়ে তখন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সাথে এন ডি এ'র শরিক ছিল।এবার দার্জিলিং বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন নীরজ জিম্বা। ২০১৯ সালে দার্জিলিং বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বিজেপি এই আসন হাতিয়ে নিয়েছিল মোর্চার কাছ থেকে। সে ভোটে অবশ্য মোর্চার বিনয় তামাং গোষ্ঠী প্রার্থী দিয়েছিল। বিনয় তামাং নিজে দাঁড়িয়ে ৪০ হাজারের বেশি ভোটে হেরেছিলেন। এবার এই কেন্দ্রে সিপিএমের প্রার্থী গৌতম রাই রাজ। গত বছরের অক্টোবর মাসে গুরুং ফের মঞ্চে অবতীর্ণ হন। আত্মগোপন পর্ব হঠাৎ ভঙ্গ করে কলকাতায় এসে তিনি ঘোষণা করেন, এনডিএ-র সঙ্গত্যাগ করছেন তিনি, এবার সমর্থন তৃণমূল কংগ্রেসে। এ বছরের গোড়ার দিকে গুরুংয়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা প্রত্যাহার করতে শুরু করে তৃণমূল সরকার। শুধু গুরুং নয়, বিনয় তামাং গোষ্ঠীর নেতাদের বিরুদ্ধেও মামলা প্রত্যাহার করা হয়। দুই গোষ্ঠীকে খুশি রাখতে পাহাড়ের তিনটি আসনই গোর্খা জনমুক্তি মোর্চাকে ছেড়ে দেন মমতা। কিন্তু পাহাড়ের রাজনীতিবিদরা বিভক্ত থাকাই পছন্দ করেছেন। ফলে এখানে ত্রিপাক্ষিক লড়াইয়ে বিজেপির সুবিধা পাবার একটা সম্ভাবনা রয়েই যাচ্ছে।
