বিডিও প্রশান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে পশ্চিম মেদিনীপুরের বাসিন্দা স্বপন কামিল্যা নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে খুনের অভিযোগ ওঠার পরই সরব হয়েছেন রাজগঞ্জের একাধিক ঠিকাদার৷ রাজগঞ্জের বিডিও অফিসের বাইরে প্রশান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভও দেখান তাঁরা৷ তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদারদের পাওনা টাকা আটকে রেখে তা নিজেই আত্মসাৎ করছেন বিডিও প্রশান্ত বর্মন৷ প্রশান্ত বর্মনকে রাজগঞ্জের বিডিও-র দায়িত্ব থেকে সরানোর দাবিও জানান তাঁরা৷
advertisement
প্রশান্ত পাল নামে একজন ঠিকাদারের অভিযোগ, ‘যেদিন থেকে বিডিও-র দায়িত্বে এসেছেন, সেদিন থেকেই চুরি শুরু করেছেন৷ দু বছর ধরে উনি আমাদের টাকা আটকে রেখেছেন৷’ সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ করা ঠিকাদারদের অভিযোগ, কারও ৫০ লক্ষ, কারও আবার ৭০ থেকে ৮০ লক্ষ টাকা আটকে রেখেছেন প্রশান্ত বর্মন৷ সেই টাকা চাইতে গেলেই বিডিও হুমকি দেন বলে অভিযোগ ঠিকাদারদের৷
দিলীপ দাস নামে একজন ঠিকাদার বলেন, ‘টাকা চাইতে গেলে উনি উল্টে আমাদের হুমকি দেন৷ একবার আমাকে এমন হুমকি দিয়েছিলেন যে আমার স্ট্রোক পর্যন্ত হয়ে গেল৷’
গোপাল সরকার নামে আরও এক ঠিকাদারের অভিযোগ, ‘আমাদের কাছে ত্রাসের মতো হয়ে গিয়েছেন৷ বিনা কারণে আমাদের ব্ল্যাক লিস্টেড করে দেন৷ এখন তো যা শুনছি ভয় লাগছে যে টাকা চাইতে গেলে আমাদেরও খুন না করিয়ে দেন৷ তার উপর আবার সঙ্গে বাউন্সার থাকে৷’
খুনের অভিযোগে নাম জড়ানোর পর থেকেই নিজের দফতরেও নিয়মিত আসছেন না বিডিও প্রশান্ত বর্মন৷ ফলে বিভিন্ন প্রয়োজনে এসে বিডিও-কে না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে৷ পারুল ঘোষ নামে এক বৃদ্ধার অভিযোগ, বিধবা ভাতা পাওয়ার জন্য একাধিকবার বিডিও কাছে তদ্বির করলেও কোনও সাহায্য করেননি প্রশান্ত বর্মন৷
রাজগঞ্জের আগে পাশের জেলা আলিপুরদুয়ারের কালচিনির বিডিও ছিলেন প্রশান্ত বর্মন৷ সেখানও তাঁর বিরুদ্ধে ঔদ্ধত্য, দাদাগিরির অভিযোগ রয়েছে৷ কালচিনির পেট্রোল পাম্প থেকে বিডিও গাড়িতে তেল ভরিয়ে বিপুল টাকা বকেয়া রেখেছিলেন৷ সেই টাকাও তিনি মেটাননি বলে অভিযোগ৷
স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে খুনের ঘটনায় ইতিমধ্যেই বিডিও প্রশান্ত বর্মনের গাড়ির চালক এবং তাঁর এক বন্ধুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ৷ যত সময় যাচ্ছে, পশ্চিম মেদিনীপুরের বাসিন্দা স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে হত্যার ঘটনায় ততই প্রশান্ত বর্মনের জোরাল যোগ সামনে আসছে৷
