শিলিগুড়ি থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে সেবকে অবস্থিত সেতুটি ১৯৪১ সালে ষষ্ঠ জর্জের রাজ্যাভিষেকের স্মরণে নির্মিত হয়েছিল। সেতুটি জাতীয় সড়ক ৩১সি বরাবর অবস্থিত, যা ডুয়ার্স এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের সাথে সংযোগকারী দুটি প্রধান সড়কের মধ্যে একটি।
সিকিমের চিন সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় সেতুটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র জানায়, রাজ্য সরকারের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা সম্প্রতি বন ও পরিবেশ বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে প্রকল্পটির পরিবেশগত ছাড়পত্র নিশ্চিত করার জন্য একাধিক বৈঠক করেছেন। নতুন সেতুটির আনুমানিক খরচ এখন ১,১২৫ কোটি টাকা।
advertisement
প্রস্তাব অনুসারে, নতুন সেতুটি সেবকে বিদ্যমান রেল সেতুর সমান্তরালে চলবে। নতুন সেতুটিতে চার লেনের মোট প্রস্থ কমপক্ষে ১৪ মিটার হবে। দ্বিতীয় সেবক ব্রিজ দ্রুত তৈরির দাবি জোরাল হচ্ছে ক্রমশ। হচ্ছে, হবে নয় পাকাপাকি ভাবে সিদ্ধান্ত নিক কেন্দ্র ও রাজ্য উভয়পক্ষই। এই দাবি নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন ডুয়ার্সের সাধারণ মানুষ। ইতিমধ্যেই এই দাবির পক্ষে সওয়াল করতে ডুয়ার্সে তৈরি হয়েছে, ‘ডুয়ার্স ফোরাম ফর সোশ্যাল রির্ফমস’ নামে একটি মঞ্চ। যেখানে ডুয়ার্সের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা যেমন আছেন তেমনি আছে সাধারণ মানুষ।
অরাজনৈতিক এই সংগঠনের বক্তব্য, গত কয়েক বছর ধরেই কেন্দ্র বা রাজ্য একাধিক সময় এই সেতু নিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবার সেতু বানানোর চূড়ান্ত কাজ করা হোক। ডুয়ার্সের সাথে শিলিগুড়ির যোগাযোগ সহজ করতে ব্রিটিশ আমলে বানানো হয় করোনেশন ব্রিজ৷ সেতুর মেয়াদ প্রায় শেষ৷ সেতুর শরীরে একাধিক জায়গায় ফাটল ধরা দিয়েছে। কয়েকটি জায়গা বিশেষ করে পিলার মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোনও ভাবে এই সেতু আরও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হলে শিলিগুড়ির সাথে ডুয়ার্সের যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। এমনকি ভুটানের সাথে যোগাযোগও বন্ধ হয়ে যাবে।
ইতিমধ্যেই ১০ টনের বেশি ওজনের গাড়ি করোনেশন সেতুর উপর দিয়ে যাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আর এখানেই প্রশ্ন ডুয়ার্সের লাইফলাইন যে সেতু, তার উপর দিয়ে যদি ১০ টনের ওজনের গাড়ি না যাতায়াত করতে পারে তাহলে সেনা বাহিনীর গাড়ি যাতায়াত করবে কীভাবে?
এই সংগঠনের অন্যতম সদস্য চন্দন রায় জানিয়েছেন, “এখন না হয় মালবাজারে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভাল করা হয়েছে। কিন্তু অনেক সময়েই রোগীকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তর করা হয়। করোনেশন সেতু ও তার সংযোগকারী রাস্তার যা হাল তাতে প্রতিদিনই নানা বিপদের মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে। ল্যান্ডস্লাইড হলে, আর কথাই নেই। দীর্ঘ যানজট। একেবারে অনিশ্চিত হয়ে পড়ে ডুয়ার্সের মানুষের যাতায়াত। তাই প্রতিশ্রুতি বা হচ্ছে, হবে নয় আমাদের এই এলাকার মানুষদের কথা ভেবে দ্রুত দ্বিতীয় সেবক ব্রিজ কাজ শুরু করা হোক।”
