ডুয়ার্সের জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় কৃষকদের কাছে বন্যপ্রাণীর হানা নতুন কোনও বিষয় নয়। গরুমারা জঙ্গল লাগোয়া বনবস্তি ও কৃষিজমিতে প্রায়ই হাতি সহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীর আক্রমণে ফসল নষ্ট হয়। কখনও কখনও প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। ফলে দিনের পর দিন চাষাবাদ চালিয়ে যাওয়াই একসময় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় চাষিদের কাছে।এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই আশার আলো দেখিয়েছেন জলপাইগুড়ি জেলার মেটলি ব্লকের বাতাবাড়ি এলাকার কৃষক মোহাম্মদ বাবলু। যে জমিতে একসময় হাতির আতঙ্কে চাষ করা অসম্ভব হয়ে উঠেছিল, সেখানেই তিনি গড়ে তুলেছেন লেবুর বাগান। স্বল্প খরচে, পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন জাতের লেবু গাছ রোপণ করে তিনি শুরু করেন নতুন ধরনের চাষ।
advertisement
বাবলু জানান, প্রতি বিঘে তুলনামূলক কম খরচে লেবু চাষ করে এখন বছরে দু’বার ফলন পাচ্ছেন। নিয়মিত লেবু বিক্রি করে তাঁর সংসারে এসেছে স্থায়িত্ব। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, এখনও পর্যন্ত তাঁর লেবু বাগানে কোনও হাতি বা বন্যপ্রাণীর হামলার ঘটনা ঘটেনি।বাবলুর এই সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও লেবু চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তবে তাঁদের আক্ষেপ, বাজারে ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। অভিযোগ, আসাম থেকে আসা লেবু বাজার দখল করে নেওয়ায় স্থানীয় চাষিদের লাভ কমে যাচ্ছে। এছাড়াও কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি দফতরের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণ, বাজার জাতকরণ বা সরকারি সহায়তা তেমনভাবে মিলছে না। তাঁদের মতে, উপযুক্ত সহযোগিতা পেলে এই ধরনের চাষ আরও বিস্তৃত হতে পারে। সব প্রতিকূলতার মধ্যেও বন্যপ্রাণীর আতঙ্ক কাটিয়ে লেবু চাষের মাধ্যমে ডুয়ার্সের কৃষকদের স্বনির্ভর হওয়ার এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে আগামী দিনের জন্য এক বড় আশার বার্তা!