এই ঘটনাকে স্বস্তির খবর হিসেবে দেখছে ভারত, কারণ দেশের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি হরমুজ প্রণালী দিয়েই আসে। চলমান সংঘাত ও বাণিজ্যিক জাহাজের উপর হামলার জেরে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
গ্যাস সিলিন্ডার নেই? রান্না বন্ধ করতে হবে না! জেনে নিন গ্যাস ছাড়া রান্নার ১০টি বিকল্প উপায়
advertisement
সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে। ইরানের সতর্কবার্তা ও একাধিক হামলার ঘটনার পর অনেক আন্তর্জাতিক ট্যাঙ্কার ও কার্গো জাহাজ এই রুট এড়িয়ে চলতে শুরু করেছে। ইরানি আধিকারিক ও ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস বারবার সতর্ক করে জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে এই জলপথ কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। এমনকি সতর্কতা অগ্রাহ্য করে যে সব জাহাজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করবে, তাদের নিরাপত্তার কোনও নিশ্চয়তা দেওয়া হবে না বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি একাধিক জাহাজ হামলার মুখে পড়েছে। থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী বাল্ক ক্যারিয়ার ‘এমভি মায়ুরি নারি’ প্রণালীর কাছে ক্ষেপণাস্ত্র সদৃশ আঘাতে আগুন ধরে যায় এবং কয়েক জন নাবিক নিখোঁজ হন। এছাড়াও ‘ওয়ান ম্যাজেস্টি’ নামের একটি কার্গো জাহাজ ও ‘স্টার গুইনেথ’ নামের একটি ট্যাঙ্কারও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সময়ে ইরাকের উপকূলের কাছে বিস্ফোরক বোঝাই নৌকা দিয়ে ‘সেফসি বিষ্ণু’ ও ‘জেফাইরোস’ নামে দুটি জ্বালানি ট্যাঙ্কারের উপর হামলা চালানো হয়। এই ধারাবাহিক হামলার জেরে অনেক শিপিং সংস্থা ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে চলাচল বন্ধ বা অন্য পথে ঘুরিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে।
তবে কূটনৈতিক উদ্যোগের ফলেই ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলিকে আপাতত হরমুজ প্রণালী দিয়ে যেতে দেওয়া হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভারত কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করে। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সরাসরি ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে কথা বলেন। আলোচনায় মূলত ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়েই কথা হয়।
ভারতের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়, হরমুজ প্রণালীতে বিঘ্ন ঘটলে শুধু আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারই নয়, ভারতের মতো তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলিও বড় সমস্যায় পড়বে। ভারতীয় জাহাজগুলি নিয়মিত বাণিজ্যিক পরিবহণে যুক্ত এবং তাদের কোনও ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের শিকার হওয়া উচিত নয়—এই বার্তাই তেহরানকে দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। ইরান সেই উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
ভারতীয় ট্যাঙ্কারগুলিকে নিরাপদে পার হতে দেওয়া ইরানের পক্ষেও একটি কূটনৈতিক বার্তা বহন করে। এর মাধ্যমে তেহরান দেখাতে চায় যে তাদের চাপ মূলত প্রতিপক্ষ দেশগুলির উপর, সেই সব দেশের উপর নয় যারা এখনও কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রেখেছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালীর বাইরে বর্তমানে আটটি এলপিজি ট্যাঙ্কার অপেক্ষা করছে বলে সূত্রের খবর। নিরাপত্তাজনিত কারণে তারা এগোতে পারছে না। এই জাহাজগুলিকে নিরাপদে পার করাতে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে ভারত সরকার।
সূত্রের দাবি, আলোচনায় ইরান সহযোগিতামূলক মনোভাব দেখাচ্ছে। একই সঙ্গে ভারতে থাকা ইরানি নাবিকদের বিষয়টিও তাদের নজরে রয়েছে। বর্তমানে প্রায় ২৫০ জন ইরানি নাবিক ভারতে রয়েছেন এবং দেশে ফেরার অপেক্ষায় আছেন। তাঁদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয় ও সহায়তার ব্যবস্থা করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ, পাশাপাশি তাঁদের দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়াও চালু রয়েছে।
