এই নিয়ে জল্পনা আলোচনার মাঝেই সামনে এসেছে দক্ষিণী তারকা প্রকাশ রাজের একটি পোস্ট৷ বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সি ভি আনন্দ বোসের পদত্যাগ নিয়ে বিস্ময়প্রকাশ করে নতুন রাজ্যপালের নাম জানিয়ে একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট করেন৷ সেখানে মমতা দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো অনুযায়ী রাজ্যপাল নিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করাই রীতি৷ কিন্তু, এক্ষেত্রে, এবিষয়ে কোনও তথ্যই ছিল না বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে৷
advertisement
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই পোস্টটিই রিপোস্ট করেন দক্ষিণী অভিনেতা প্রকাশ রাজ৷ কিন্তু, সেটাই বিষয় নয়৷ রিপোস্ট করে অভিনেতা যে কথা লিখেছেন, তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷
প্রকাশ রাজ লেখেন, ‘এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই…ম্যাডাম৷ তামিলনাড়ুর আমরা ওঁকে চিনি’৷ প্রকাশ রাজের ইঙ্গিত, ‘কোনও ব্যক্তি’র অনুগত রবিকে নির্বাচনের সময় পশ্চিমবঙ্গে চান৷ ‘সিম্পল’! তারপরেই প্রকাশ রাজ লেখেন, ‘আপনি আমাদের রকস্টারের মতো লড়াই চালিয়ে যান’৷
রাজ্যপালের পদত্যাগের পরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স হ্যান্ডেলে বার্তা দিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ করেছিলেন, ‘কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে জানিয়েছেন, শ্রী আর. এন. রবিকে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে নিযুক্ত করা হচ্ছে। তিনি এই বিষয়ে প্রতিষ্ঠিত রীতি অনুসারে কখনও আমার সঙ্গে পরামর্শ করেননি।’
মমতা লিখেছিলেন, ‘এই ধরনের পদক্ষেপ ভারতের সংবিধানের চেতনাকে ক্ষুণ্ণ করে এবং আমাদের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভিত্তির উপর আঘাত করে। কেন্দ্রকে সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয়তার নীতিগুলিকে সম্মান করতে হবে এবং গণতান্ত্রিক রীতিনীতি এবং রাজ্যগুলির মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে এমন একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।’ মমতার এই পোস্টই রিপোস্ট করেছেন অভিনেতা প্রকাশ রাজ৷
প্রসঙ্গত, তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল হিসাবে একাধিক বার তাঁর সঙ্গে সম্মুখ সংঘাত হতে দেখা গিয়েছে সেখানকার ডিএমকে সরকারের৷ গত মাসে সে রাজ্যের বিধানসভা অধিবেশন শুরুর আগে রাজ্য গান এবং জাতীয় সঙ্গীত বাজানো নিয়ে সংঘাত হওয়ায় প্রথামতো অধিবেশন শুরুর বক্তৃতা দেননি তিনি৷
শুধু তাই নয়, প্রায়শই রবিকে ‘স্বৈরাচারী’ বলে উল্লেখ করে থাকেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিন৷ রাজ্যের একাধিক বিল পাশ করতে গড়িমসি করেন বলে অভিযোগ৷ ২০২৪ সালে সুপ্রিম কোর্ট কে পনমুড়ির শাস্তির রায়ে স্থগিতাদেশ জারি করার পরেও, তাঁকে মন্ত্রিসভায় শামিল করতে অস্বীকার করেছিলেন তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল আরএন রবি৷
আরও পড়ুন: জীবিত ভোটার মৃত! এই বুথেই ঘটেছিল সেই ঘটনা…এবার বাবার নাম নিয়ে অদ্ভুত ঘটনা SIR তালিকা
২০২৩ সালে সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই ‘ভি সেনথিল বালাজি’র মন্ত্রিপদ খারিজ করে দিয়েছিলেন রবি৷ অবশ্য সেই দিনই সিদ্ধান্ত বদল করতে ‘বাধ্য’ হন তিনি৷
কে এই আর এন রবি? ১৯৫২ সালের এপ্রিল মাসে বিহারের পটনায় জন্ম। কর্মজীবনের শুরুতে কিছুদিন সাংবাদিক হিসাবে কাজ করেছেন। তারপর ১৯৭৬ সালে ইউপিএসসি পাস করে আইপিএস হিসাবে নতুন কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর একে একে ভারত সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হন। সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন ও ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর কর্তা হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০১৪ সালে তাঁকে জয়েন্ট ইন্টেলিজেন্স কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয়। তারপর ২০১৮ সালের অক্টোবরে ডেপুটি ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার হন।
