পরিচালনগত দক্ষতায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে, উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে ৩৫টি ট্রেনের গতিবেগ বৃদ্ধি করেছে, এর ফলে ভ্রমণের মোট সময়ে ৬৭৫ মিনিট সাশ্রয় হয়েছে, যা প্রতি ট্রেনে গড়ে প্রায় ১৯ মিনিট সময় কমেছে। একই সঙ্গে, রেলওয়ে ১০০% বৈদ্যুতিকরণের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছে, যা ভারতীয় রেলেওয়ের স্থায়ী ও শক্তি-সাশ্রয়ী কাজের লক্ষ্য পূরণে অবদান রাখার পাশাপাশি রেললাইনের ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক ট্রেনের পরিচালন দক্ষতা উন্নত করেছে।
advertisement
আরও পড়ুন-ফের দাম বাড়ল গ্যাসের, ১ এপ্রিল থেকে ২১৮ টাকা বেড়ে গেল বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম
ভৈরবী–সাইরাং রেল লাইনের উদ্বোধন মিজোরামের জন্য এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে; যাত্রীসেবা সেখানে অভূতপূর্ব সফলতা পেয়েছে এবং বেশ কয়েকটি ট্রেনে যাত্রীসংখ্যার হার ১০০ শতাংশেরও অধিক রেকর্ড করা হয়েছে। পণ্য পরিবহন কাম-কাজেও গতি লাভ করেছে, যার মধ্যে সিমেন্ট, স্টন চিপস, যানবাহন এবং অন্যান্য সামগ্রীর পরিবহন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সাইরাঙে প্রথম অটোমোবাইল রেক, নাগাল্যান্ডের মলভোমে পণ্য পণ্যবাহী ট্রেনের চলাচল এবং মেঘালয়ের মেন্ডিপথারে প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ রেক লোডিংয়ের মতো মাইলফলকগুলো আঞ্চলিক বাণিজ্য, বজার প্রবেশাধিকার এবং অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধাকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করেছে।
আরও পড়ুন- IAS IPS-সহ ৩৭১ অফিসারের রদবদল, হাইকোর্ট মামলা খারিজ করতেই জল গড়াল সুপ্রিম কোর্টে
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে পরিকাঠামো ও আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে, যার মধ্যে হাওড়া ও গুয়াহাটি সংযোগকারী ভারতের প্রথম ‘বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস’-এর প্রবর্তন, এবং একই সঙ্গে নতুন ‘অমৃত ভারত’ ও এলএইচবি -সজ্জিত ট্রেন পরিষেবা অন্তর্ভুক্ত। মুর্কংসেলেক–সিলে সেকশনের উদ্বোধন অরুণাচল প্রদেশে সংযোগ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করবে। এছাড়াও, ‘অমৃত ভারত স্টেশন স্কিম’-র অধীনে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ বেশ কয়েকটি স্টেশনকে পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে, এর মধ্যে অসমের হয়বরগাঁও রেল স্টেশনটি সমসাময়িক পরিকাঠামো ও স্থানীয় ঐতিহ্যের এক মডেল স্টেশন হিসেবে গড়ে উঠছে, অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের কামাখ্যাগুড়ি রেল স্টেশনটিকে ইতিমধ্যেই উন্নত ও যাত্রী-বান্ধব সুযোগ-সুবিধাসহ আধুনিকীকরণ করা হয়েছে।
উত্তর পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা জানিয়েছেন, পরিচালনাগত সাফল্যের পাশাপাশি, উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে হাসপাতালগুলোকে উন্নত সুযোগ-সুবিধা ও আধুনিক সরঞ্জাম দিয়ে এবং রেলওয়ে বিদ্যালয়গুলোকে উন্নত পরিকাঠামো ও ডিজিটাল শিক্ষার পরিবেশ দিয়ে সমৃদ্ধ করার মাধ্যমে তার স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাগত পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই পদক্ষেপগুলো উন্নয়নের প্রতি উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে-এর সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটায়, যা কেবল উন্নত যাত্রীসেবাই নিশ্চিত করে না, বরং রেলওয়ে কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের উন্নত কল্যাণও সাধন করে—এবং একই সাথে সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চল জুড়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে।
