সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আদালতের বিষয় নিয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করবেন না। যা বলার, তা আইনজীবীরাই বলবেন। তবে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রসঙ্গে মমতা জানান, তাঁদের কাছে প্রয়োজনীয় সংখ্যা না থাকলেও সেই প্রস্তাব আনা যেতে পারে। মানুষের স্বার্থে দলের সঙ্গে আলোচনা করে তৃণমূল সেই প্রস্তাবকে সমর্থন করবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
advertisement
‘৬ বার চিঠি লিখেছি! ২৪ বছর পর হঠাৎ করে নির্বাচনের আগে SIR কেন?’ কালো পোশাকে বঙ্গভবনে সোচ্চার মমতা
বিএলওদের পারিশ্রমিক ও ক্ষতিপূরণ নিয়ে কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই বিএলওদের ৬০ কোটি টাকা দিয়েছে। কমিশন বাকি টাকা দিলে রাজ্যও বকেয়া মিটিয়ে দেবে। স্পেশাল রিভিশনের জন্য কমিশন কেন অর্থ দেয় না এবং কেন বিএলওদের পরিবারের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, একটি রাজনৈতিক দলকে খুশি করতে গিয়ে এত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, অথচ তার কোনও জবাব দিচ্ছে না কমিশন।
তাঁর কথায়, “বিএলওদের ৬০ কোটি টাকা দিয়েছি। বাকি টাকা আমাদের দিলে আমরাও দিয়ে দেব বকেয়া টাকা। স্পেশাল রিভিশন করার জন্য কেন টাকা দেয়না কমিশন? কেন বিএলওদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপুরণ দেবে না কমিশন? একটা রাজনৈতিক দলকে খুশি করতে গিয়ে এত মানুষের মৃত্যু হল— ওঁরা কোনও জবাব দেবেন না কেন? রাজনৈতিক দলের চাপে পড়ে নির্দেশ দেয় বিচারকরা”
আসন সংখ্যা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে মমতা বলেন, তিনি রাজনৈতিক জ্যোতিষী নন, তবে আগের বারের তুলনায় তৃণমূল আরও বেশি আসন পাবে বলে তাঁর বিশ্বাস। জমি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি দাবি করেন, কখনও কখনও রাজনৈতিক দলের চাপে পড়ে বিচারকেরা নির্দেশ দেন। তিনি একাধিকবার জমি দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন। সীমান্তে ফেন্সিংয়ের প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, রাজ্যের হাতে দায়িত্ব দিলে তারা কাজ করে দেবে, তবে ৫০ কিলোমিটার নয়, ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত।
সাংবাদিক সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের আচরণ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, কমিশনাররা প্রতিনিধি দলের সঙ্গে অত্যন্ত রূঢ় ব্যবহার করেছেন এবং চিৎকার শুরু করেছিলেন। তৃণমূল প্রতিনিধিরা তখনই আপত্তি জানান এবং নিজেদের ‘বন্ডেড লেবার’ নয় বলে স্পষ্ট করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তাঁরা ফুল ও মিষ্টি নিয়ে বৈঠকে গিয়েছিলেন, কিন্তু দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদে শেষ পর্যন্ত সাংবাদিক সম্মেলন বয়কট করে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হন।
