স্বামী-স্ত্রীর দু জনকেই দশ হাজার টাকা করে জরিমানা করার পাশাপাশি তারা যাতে ভবিষ্যতে পরস্পরের বিরুদ্ধে কোনও মামলা করতে না পারেন, সেই নির্দেশও দিয়েছে শীর্ষ আদালত৷
পর্যবেক্ষণে শীর্ষ আদালত জানায়, ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটানোর জন্য আদালতকে এ ভাবে ব্যবহার করা যায় না৷ শীর্ষ আদালত জানায়, এমনিতেই দেশের বিচারব্যবস্থার উপরে অতিরিক্ত মামলার বোঝা রয়েছে৷ যে কারণে মামলার নিষ্পত্তি হতেই অনেক সময় লেগে যায়৷ সেখানে এভাবে প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে একের পর এক মামলা দায়ের করলে বিচারব্যবস্থার উপরে আরও চাপ বাড়ে বলেও জানায় সুপ্রিম কোর্ট৷
advertisement
জানা গিয়েছে, ২০১২ সালে ওই দম্পতির বিয়ে হয়েছিল৷ বিয়ের ৬৫ দিনের মাথায় স্বামী এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ তুলে বাপের বাড়ি ফিরে যান স্ত্রী৷ তার পর থেকে আলাদাই থেকেছেন ওই দম্পতি৷ কিন্তু তাঁদের আইনি লড়াই থেমে থাকেনি৷ পরস্পরের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছেন তাঁরা৷
দিল্লি এবং উত্তর প্রদেশের হাইকোর্ট সহ অন্যান্য আদালতে পরস্পরের বিরুদ্ধে সবমিলিয়ে ৪০টি মামলা দায়ের করেছেন তাঁরা৷ দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া-তে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি রাজেশ বিন্দল এবং বিচারপতি মনমোহনের ডিভিশন বেঞ্চ মামলার রায় দিতে গিয়ে জানায় যে এই মামলা পুরোপুরি ব্যক্তিগত শত্রুতার জায়গা থেকে দায়ের করা হয়েছে৷ ডিভিশন বেঞ্চ রায়ে বলে, ‘ওই দম্পতি মাত্র ৬৫ দিন একসঙ্গে থেকেছেন এবং গত এক দশকে নিজেদের আক্রোশ মেটাতে একজন আর একজনের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা করেছেন৷ আমাদের মতে তাঁদের দু জনকেই জরিমানা করা উচিত৷’
এর পরই স্বামী-স্ত্রী দু জনকেই ১০ হাজার টাকা করে প্রতীকী জরিমানা করে সুপ্রিম কোর্ট৷ ওই টাকা সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেটস অন রেকর্ডস অ্যাসোসিয়েশনে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়৷ শুধু তাই নয়, ওই দম্পতির সম্পর্ক যে জায়গায় পৌঁছেছে তাতে কোনওভাবেই তাঁরা একসঙ্গে সংসার করতে পারবেন না বলে জানিয়ে সংবিধানের ১৪২ নম্বর ধারায় দেওয়া ক্ষমতা প্রয়োগ করে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদের নির্দেশও দেয় সুপ্রিম কোর্ট৷
পর্যবেক্ষণে বিচারপতিরা আরও জানায় সাম্প্রতিক সময়ে সুপ্রিম কোর্টেও বিবাহবিচ্ছেদ অথবা বৈবাহিক অশান্তি সংক্রান্ত মামলা দায়েরের প্রবণতা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে৷ শীর্ষ আদালত স্বীকার করে নিয়েছে, বৈবাহিক সম্পর্কে যদি স্বামী অথবা স্ত্রী একবার ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন, সেই সম্পর্ক টিকে থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে যায়৷ এই পরিস্থিতিতে বৈবাহিক সম্পর্কে ফাটল ধরলে এবং তা আদালতে পৌঁছলে প্রথম থেকেই স্বামী এবং স্ত্রীকে বুঝিয়ে মিল করানোই একমাত্র পথ বলেই মত দেন দুই বিচারপতি৷
