এর আগে বম্বে হাইকোর্টের কাছে গর্ভপাতের আবেদন জানিয়েছিল ওই কিশোরী৷ যদিও সেই আবেদনে সাড়া দেয়নি হাইকোর্ট৷ বম্বে হাইকোর্টের নির্দেশ দিল, সন্তানের জন্ম দিতেই হবে ওই কিশোরীকে৷ তবে সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর চাইলে তাকে দত্তক দিয়ে দেওয়ার অনুমতি দিয়েছিল বম্বে হাইকোর্ট৷ যদিও বম্বে হাইকোর্টের সেই নির্দেশকে খারিজ করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বি ভি নাগারত্নর বেঞ্চ৷
advertisement
সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিতে গিয়ে বলে, একজন মহিলা যদি সন্তানের জন্ম দিতে না চান তাহলে আদালত তাঁকে বাধ্য করতে পারে না৷
জানা গিয়েছে, এক বন্ধুর সঙ্গে সম্পর্কের সূত্রেই ১৭ বছর বয়সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে ওই কিশোরী৷ বর্তমানে তার বয়স ১৮ বছর ৪ মাস৷ গর্ভাবস্থার ৩০ সপ্তাহ হয়ে গিয়েছে তার৷ শীর্ষ আদালত জানায়, এই সন্তানকে জন্ম দিতে বাধ্য করলে তা ওই কিশোরীর পক্ষে শারীরিক এবং মানসিক দিক দিয়ে অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক হবে৷
মেডিক্যাল বোর্ডের রিপোর্ট পরীক্ষা করেও শীর্ষ আদালত জানায়, এই অবস্থায় গর্ভপাত করলেও ওই কিশোরীর স্বাস্থ্যের পক্ষে বড় কোনও ঝুঁকি নেই৷ ওই কিশোরীর আইনজীবীও আদালতে জানায়, সন্তানের জন্ম দিতে বাধ্য করলে তা ওই কিশোরীর পক্ষে অত্যন্ত বড় মানসিক ধাক্কা হবে৷ কারণ অবৈধ সন্তানের জন্ম দিলে সামাজিক ভাবেও তাকে হেনস্থার মুখে পড়তে হতে পারে৷ শীর্ষ আদালত অবশ্য স্বীকার করে নেয়, গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হলেও এক্ষেত্রে আবেদনকারী কিশোরীর স্বার্থ রক্ষা করতেই হবে৷
পর্যবেক্ষণে শীর্ষ আদালত জানায়, একজন নাবালিকাকে তার অবৈধ সন্তানের জন্ম দিতে বাধ্য করা যায় কি না, এক্ষেত্রে সেটাই চূড়ান্ত বিচার্য৷ একটি সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার কারণেই তাঁকে এই দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে৷ পারস্পরিক সহমতের ভিত্তিতেই ওই কিশোরী তাঁর বন্ধুর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে ছিল কি না, এক্ষেত্রে তা বিচার্য বিষয় নয় বলেও স্পষ্ট করে দেয় শীর্ষ আদালত৷
বিচারপতি নাগারত্ন বলেন, আমরা কার স্বার্থ রক্ষা করব? যে সন্তান এখনও জন্মায়নি তার নাকি যে মা সন্তানের জন্ম দিচ্ছে তার? এমন অনেক ঘটনা রয়েছে যেখানে গর্ভপাত আইনে নির্ধারিত সময়ের পরেও গর্ভপাত হয়েছে৷ চিকিৎসকরা বলবেন তাঁরা আইনের বাইরে গিয়ে গর্ভপাত করবেন না৷ তাহলে এই ধরনের পরিস্থিতিতে একমাত্র ভরসা হাতুড়ে ডাক্তার এবং কোয়াক চিকিৎসকরা৷ গর্ভপাতের জন্য তাহলে তাদের কাছেই যেতে হবে৷
ভারতীয় আইনে গর্ভাবস্থার ২০ সপ্তাহ পর্যন্ত গর্ভপাত করানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন একজন মহিলা৷ গর্ভাবস্থার ২৪ সপ্তাহ পর্যন্ত মায়ের স্বাস্থ্যের পক্ষে কী প্রভাব পড়বে সেই পরামর্শ মেডিক্যাল বোর্ডের থেকে নিয়ে গর্ভপাত করানো যেতে পারে৷ গর্ভাবস্থার ২৪ সপ্তাহের পর থেকে একমাত্র আদালতের অনুমতি নিয়েই গর্ভপাত করানো যায়৷
