এ দিন সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া নিয়ে মাইক্রো অবজার্ভাররা চূড়ান্ত নির্দেশ নিতে পারবেন না৷ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ইআরও-রা, তাঁদের সাহায্য করবেন মাইক্রো অবজার্ভাররা৷ রাজ্য সরকারি অফিসারদেরই মাইক্রো অফিসার হিসেবে নিয়োগের নির্দেশও দিয়েছে শীর্ষ আদালত৷
ভিন রাজ্যের মাইক্রো অবজারভারদের নিয়ে কী অভিযোগ ছিল মমতার?
সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ করা মাইক্রো অবজারভাররা এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাচারিতা চালাচ্ছেন৷ মাইক্রো অবজারভারদের বিরুদ্ধে অনধিকার চর্চার অভিযোগও তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ মুখ্যমন্ত্রী সওয়াল করতে গিয়ে দাবি করেছিলেন, যে কাজ এসডিও অথবা এসডিএম পদমর্যাদার রাজ্যের অফিসারদের ইআরও হিসেবে করার কথা, সেই কাজে নাক গলাচ্ছেন মাইক্রো অবজারভাররা৷
advertisement
এ দিনই ৮৫০৫ জন গ্রুপ বি অফিসারের তালিকা কমিশনকে দিয়েছে রাজ্য সরকার৷ তাঁদের মধ্যে ৬৫ শতাংশই গ্রুপ বি অফিসার৷ বাকিদেরও অন্তত ৯ থেকে ১০ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে৷ কেন্দ্রীয় সরকারি যে অফিসারদের মাইক্রো অবজারভার হিসেবে কমিশন নিয়োগ করেছিল, তাঁদের তুলনায় রাজ্যের এই অফিসাররা এই কাজে অনেক বেশি দক্ষ এবং প্রশিক্ষিত বলেই সুপ্রিম কোর্টের সওয়ালে দাবি করেছেন রাজ্যের আইনজীবী৷
কী নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট?
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, এই ৮৫০৫ জন ১০ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫ টার মধ্যে ডিইও কাছে রিপোর্ট করবেন। এই ৮৫০৫ জনের মধ্যে যোগ্যদের কমিশন এইআরও বা মাইক্রোঅবজারভার পদে বসাবে, পুরোনোদের স্থানান্তর করে। স্বল্প সময়ের প্রশিক্ষণ দিয়ে এই অফিসারদের এসআইআর স্ক্রটিনির কাজে ব্যবহার করবে কমিশন৷
ইআরও-র ক্ষমতা কী?
একটি বিধানসভার ক্ষেত্রে ভোটার তালিকায় একজন ভোটারের নাম থাকার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সবুজ সঙ্কেত দিতে পারেন ইলেক্টোরাল রোল অফিসার অথবা ইআরও৷ কমিশনের নিজস্ব তথ্যভাণ্ডার থেকে লগ ইন পাসওয়ার্ডের মাধ্যমে কোনও ভোটারের নিজস্ব তথ্য খুলে দেখতে পারেন ইআরও৷ তাতে প্রয়োজনীয় সংশোধনও করতে পারেন ইআরও৷ বাংলায় ইআরও-দের এই কাজেই মাইক্রো অবজারভাররা হস্তক্ষেপ করছিলেন বলে অভিযোগ তুলেছিল রাজ্য সরকার এবং শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস৷
রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ব্যাখ্যা করে বলেন, শীর্ষ আদালত জানিয়েছে রাজ্যের দেওয়া ৮৫০৫ জন মাইক্রো অবজারভার হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে শুনানিতে ডাক পাওয়া ভোটারদের সমস্ত নথি দেখবেন৷ আগে যে শুনানি হয়েছে, সেই নথিও তাঁরা দেখবেন৷ কারণ এই অফিসাররা স্থানীয় ভাষা জানেন৷ ভিন রাজ্য থেকে আসা থেকে মাইক্রো অবজারভাররা তো স্থানীয় ভাষা জানেন না৷ এটাই তো আমাদের মূল দাবি ছিল৷ ভোটারদের নথি দেখে নিজেদের মতামত জানাবেন এই মাইক্রো অবজারভাররা৷ কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ইআরও৷ অন্য কেউ নন৷
