সুপ্রিম কোর্ট সোমবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে বলে, এসআউআর প্রক্রিয়ায় যা যা সমস্যা থাকবে, আদালত তা দূর করবে, কিন্তু তারা (পশ্চিমবঙ্গ সরকার) যেন এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা বাধাসৃষ্টি না করে৷
advertisement
এদিন এসআইআর মামলার শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত বলেন, ‘‘আমরা সব বাধা দূর করব৷ কিন্তু, এসআইআর সম্পূর্ণ করার পথে কোনও বাধা সৃষ্টি করব না৷ এ বিষয়টায় পরিষ্কার হয়ে নেওয়া যাক৷’’
প্রবীণ আইনজীবী ডিএস নায়ডু, ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের (EROs) যোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন৷ জানান, নিযুক্ত ERO-গের মধ্যে মাত্র ৬৪ জনের বিচারপ্রক্রিয়া সংক্রান্ত ধারণা রয়েছে৷ বাকিদের বেতন সমতার ভিত্তিতে নিয়োগ করা হয়েছে৷ কারা ভুয়ো ভোটার, কাদের নাম বাদ যাওয়া উচিত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এঁদের যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় আদালতে৷
এদিন এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভিন রাজ্য থেকে আনা মাইক্রো অবজার্ভারদের নিয়েও আলোচনা হয় আদালতে৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, মাইক্রো অবজার্ভার যথেষ্ট প্রশিক্ষিত নন, এই ধরনের জটিল এসআইআর প্রক্রিয়া চালানোর বিষয়ে৷ তাঁরা সিদ্ধান্ত নিলে বিরাট সংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ চলে যেতে পারে৷
সই আশঙ্কার প্রেক্ষিতেই এদিন শীর্ষ আদালত শুনানি শেষে নির্দেশ দেয়, ‘‘ মাইক্রো অবজারভাররা শুধুমাত্র সিদ্ধান্ত নিতে সহযোগিতা করবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ইআরওই৷ মাইক্রো অবজারভাররা শুধুমাত্র অ্যাসিস্ট করবেন চিহ্নিত স্ট্যাচুয়েটরি অথরিটিকে৷’’
এছাড়া, নির্দেশে বলা হয়েছে, রাজ্যের তরফে যে ৮,৮০৫ জন গ্রুপ বি অফসারকে এআইআর-এর কাজের জন্য দেওয়া হয়েছে, তাঁদের স্বল্প সময়ের প্রশিক্ষণ দিয়ে মাইক্রোঅবজার্ভার, এইআরও পদে পরিবর্তন করতে পারবে কমিশন৷
আরও পড়ুন: রোজই চড়েন! বলুন তো ‘বাসের’ ফুল ফর্ম কী? ৯৯% লোকজনই ডাহা ভুল উত্তর দিয়েছেন
তবে, সিজেআই উল্লেখ করেন, মাইক্রো অবজার্ভাররা ইআরও এবং এইআরওদের সহায়তা করার জন্য তৈরি একটি সিস্টেমের অংশ৷ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের কর্তৃত্ব ইআরওদের হাতেই রয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, বেশি সংখ্যক আধিকারিক যদি এই প্রক্রিয়ায় যোগদান করেন, তাহলে সিদ্ধান্তের মান উন্নত হতে পারে।
শুনানির সময়, অন্যদিকে, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের জন্য ১৪ ফেব্রুয়ারির দিন ধার্য করার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগপ্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী দিওয়ান৷ তিনি বলেন, খসড়া ভোটার তালিকায় ৭.০৮ কোটি ভোটার রয়েছে, যার মধ্যে ৬.৭৫ কোটি ভোটার ম্যাপ করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ৩২ লক্ষ এখনও ম্যাপ করা হয়নি এবং ১.৩৬ কোটি ভোটার ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সির’ তালিকাভুক্ত৷ তিনি আর্জি জানান, এসআইআর প্রক্রিয়া চলুক। ততদিন পর্যন্ত পুরনো ভোটার তালিকা গ্রাহ্য হোক৷
তারপরেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের জন্য আরও অতিরিক্ত ১ সপ্তাহ সময় দেওয়া হবে৷ অর্থাৎ, পূর্ব নির্ধারিত ১৪ ফেব্রুয়ারির বদলে তার ১ সপ্তাহ পরে প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা৷
