টানেলটি দুর্বল ও প্রত্যাহ্বানমূলক ভূ-তাত্ত্বিক অবস্থা এবং তরুণ হিমালয়ের ভূকম্পীয় অবস্থার মধ্য দিয়ে প্রসারিত হয়েছে। এই টানেলটি নির্মাণ করার সময় কয়লা গঠন হওয়ার জন্য মিথেন গ্যাস নির্গমন হয়েছিল, যা এক বৃহৎ প্রত্যাহ্বানমূলক ছিল। কাজের সময় যে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মিথেন গ্যাসের জন্য নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়েছে। এসআরআরপি-এর অন্যান্য সমস্ত টানেলের মতো মাটির ভারের দুর্বলতা প্রতিরোধ করতে, সর্বশেষ ও সবচেয়ে আধুনিক ও পরিশীলিত টানেলিং টেকনোলজি তথা নিউ অস্ট্রিয়ান টানেলিং মেথড অথবা এনএটিএম ব্যবহার করা হয়েছে।
advertisement
এই প্রকল্পে টানেল ডিজাইনের জন্য একটি আমেরিকান কনসালটেন্সি টিম জড়িত হয়েছে এবং ভারত ও বিদেশের শীর্ষস্থানীয় ও অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ার এবং ভূতাত্ত্বিকরা পরিচালনা টিমে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।সেবক-রংপো প্রজেক্ট ইতিমধ্যেই ৫৭ শতাংশ অগ্রগতি অর্জন করেছে। এই নতুন রেল সংযোগী প্রকল্পটি প্রায় ৪৫ কিঃমিঃ লম্বা সেবক (পশ্চিমবঙ্গ) ও রংপোকে (সিকিম) সংযুক্ত করবে এবং ১৪টি টানেল, ১৭টি ব্রিজ ও ৫টি স্টেশন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দীর্ঘতম টানেলটি (টি-১০) ৫.৩ কিমি এবং দীর্ঘতম ব্রিজটি (ব্রিজ-১৭) ৪২৫ মিটার লম্বা। সমগ্র প্রকল্পটির প্রায় ৩৮ কিঃমিঃ বিন্যাস টানেলের মাধ্যমে অতিক্রম হয়েছে এবং টানেল নির্মাণের ৮৩ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ হয়েছে।
আরও পড়ুন: ট্রেন পরিষ্কারে জলের ব্যবহারে সাবধানী রেল, মাত্র ২০ শতাংশ বিশুদ্ধ জল ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত!
২০২৪-এর জানুয়ারি মাসের মধ্যে টানেল খনন সম্পূর্ণ হবে বলে প্রত্যাশা করা হয়েছে। বর্তমানে টানেল টি-১৪ -এ ফাইনাল লাইনিং সম্পূর্ণ করা হয়েছে এবং টানেল টি-০২, টি-০৫, টি-০৯, টি-১০, টি-১১ ও টি-১২-এর কাজ অগ্রগতি লাভ করেছে। আজকের তারিখ পর্যন্ত মোট ৫.৩৪ কিমি লাইনিং সম্পূর্ণ হয়েছে এবং ২০২৪-এর সেপ্টেম্বরের মধ্যে এটি সম্পূর্ণ হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সবগুলি সেকশনের কাজ দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা চালানো হচ্ছে। এটি ভারতের অন্যতম একটি মর্যাদাপূর্ণ নির্মীয়মাণ জাতীয় প্রকল্প এবং প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হয়ে গেলে প্রথমবারের জন্য সিকিম রেলওয়ের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে যাবে। এই রেল নেটওয়ার্কটি সম্পূর্ণ হওয়ার পর সিকিম রাজ্যকে একটি বিকল্পমূলক সংযোগ প্রদান করবে। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ করতে বর্তমানে টানেল, ব্রিজ ও স্টেশন ইয়ার্ড নির্মাণ সম্পর্কিত সমস্ত কার্যকলাপ যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে চালানো হচ্ছে।
আবীর ঘোষাল
