ইউরোপীয় কমিশন আগামী ১৫ এপ্রিল একটা কঠোর আইনি প্রস্তাব পেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এই প্রস্তাবের উদ্দেশ্য ছিল ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়া থেকে আসা তেলের আমদানি চিরতরে বন্ধ করা। কিন্তু মঙ্গলবার প্রকাশিত ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের নতুন এজেন্ডা থেকে জানা গিয়েছে, এখন এই প্রস্তাবটা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এক ইউরোপীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রস্তাবটা পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি, কিন্তু বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এটা এখন এপ্রিল মাসে পেশ করা হবে না।
advertisement
ভারত সস্তা দামে রাশিয়ার কাঁচা তেল কিনে সেটাকে রিফাইন করে এবং তারপর সেই তেল থেকে তৈরি পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য ইউরোপের বাজারে বিক্রি করে। এই ব্যবসা থেকে ভারত অনেক লাভ এবং মোটা টাকা আয় করে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার তেলের উপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা করার প্রস্তাব পিছিয়ে যাওয়ায় ভারতের জন্য এই ব্যবসার রাস্তা আরও বেশি খুলে গিয়েছে। এখন ভারতীয় রিফাইনারিগুলো কোনও বাধা ছাড়াই রাশিয়ার ক্রুড অয়েল থেকে তৈরি পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের আরও বড় চালান ইউরোপের বাজারে বিক্রি করতে পারবে। এই সিদ্ধান্ত ভারতের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে, যার ফলে তেল কোম্পানিগুলোর জন্য দারুণ খবর পাওয়া নিশ্চিত।
কেন ইউরোপ হাঁটু গেড়ে বসেছে?
এই সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ ইরানের উপর হামলা। International Energy Agency (IEA)-এর মতে, আমেরিকা-ইজরায়েল আর ইরানের মধ্যে চলা যুদ্ধ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহ সঙ্কট তৈরি করেছে। এই যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে। সঙ্কট এতটাই গভীর যে, ইউরোপকে তাদের এপ্রিলের প্ল্যান জোর করে থামাতে হয়েছে।
ইউরোপের আসল এবং কঠিন প্ল্যান কী ছিল?
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিকল্পনা ছিল এমন একটা আইন তৈরি করার, যার অধীনে ২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত রাশিয়ার তেল আমদানি পুরোপুরি শূন্য করা হবে। ইউরোপ এটাও নিশ্চিত করতে চেয়েছিল যে ভবিষ্যতে যদি ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ হয়ে যায় এবং রাশিয়ার উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়, তবুও এই আইনি ‘স্থায়ী ব্যান’ কার্যকর থাকবে এবং রাশিয়া থেকে তেল কেনা যাবে না।
হাঙ্গেরির কড়া বিরোধিতা এবং রাজনীতি
এই বছর ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নে শুধু হাঙ্গেরি এবং স্লোভাকিয়া এই দুইটা দেশ ছিল, যারা রাশিয়ান তেল আমদানি করছিল হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান-এর মস্কোর সঙ্গে ভাল সম্পর্ক আছে এবং উনি এই নিষেধাজ্ঞার কড়া বিরোধিতা করছেন ৷ ১৫ এপ্রিল যে শুরুর তারিখ ঠিক করা হয়েছিল, সেটা হাঙ্গেরির সংসদীয় নির্বাচনের ঠিক তিন দিন পরের ছিল, কিন্তু এখন এই চালটা উল্টো পড়ে গিয়েছে ৷
ভারতের জন্য ‘ভাল খবর’ কেন?
ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ আগেই তেলের বড় সঙ্কটের মুখে পড়েছে। এরমধ্যে যদি ইউরোপ ১৫ এপ্রিল রাশিয়ান তেলের উপর স্থায়ী ব্যান-এর আইন নিয়ে আসত, তাহলে ক্রুড অয়েলের দাম আরও বেশি বাড়ত, যার সরাসরি প্রভাব ভারতে পেট্রোল-ডিজেল-এর দামে পড়ত। ইউরোপ এই সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেওয়ায় গ্লোবাল সাপ্লাই চেইনের উপর চাপ কম হয়েছে। এমন এক সময়ে যখন ভারত তার এনার্জি চাহিদার জন্য ‘সেফ অপশন’ খুঁজছে, ইউরোপের এই পদক্ষেপ ভারত এবং সাধারণ মানুষের পকেটের জন্য বড় ‘স্বস্তি’ নিয়ে এসেছে!
