পাল্টা বিজেপি শিবির থেকে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, ২০১১ সালে লিবিয়ার ন্যাটো বাহিনীর সাহায্য নিয়ে লিবিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মুয়াম্মর গদ্দাফিকে হত্যার পরেও সেই সময় ইউপিএ সরকারের পক্ষ থেকে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি৷ যদিও সেই সময় লিবিয়ার সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক যথেষ্ট ভাল ছিল৷
২০০৬ সালেও একই ভাবে ইরাকে সাদ্দাম হুসেনের হত্যার পরেও ইউপিএ সরকার কোনও বিবৃতি জারি করেনি৷ এ নিয়ে দেশের রাজনীতিতেও খুব বেশি হইচই হয়নি৷
advertisement
মধ্যপ্রাচ্যে এই মুহূর্তে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়ে আছে তাতে ভারতের সবথেকে বড় চিন্তা ওই অঞ্চলে বিভিন্ন দেশে থাকা লক্ষ লক্ষ ভারতীয়ের নিরাপত্তা৷ বিষয়টি নিয়ে উপকূলীয় দেশগুলির রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি৷ ইরান যে ভাবে সামরিক লক্ষ্যবস্তু ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের জনবহুল এলাকাগুলিতেও হামলা চালাচ্ছে, তাতে ওই সব দেশে বসবাসকারী ভারতীয়দেরও জীবন সংশয় হচ্ছে৷ সে কারণেই ইরানের এই ধরনের হামলার নিন্দা করেছে ভারত৷
আবার খামেনেইয়ের হত্যার প্রতিবাদে হাতেগোনা কয়েকটি দেশ ছাড়া পৃথিবীর অধিকাংশ দেশই সেভাবে সরব হয়নি৷ শুধুমাত্র তুরস্ক, পাকিস্তান, উত্তর কোরিয়া, ইরাক সহ আরও কয়েকটি দেশ খমেনেই হত্যার নিন্দা করেছে৷ অধিকাংশ গণতান্ত্রিক শক্তিই এ বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে৷ যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান, অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশ তো বটেই, এমন কি উপকূলীয় অধিকাংশ দেশই খামেনেইয়ের হত্যা নিয়ে হয় নীরব থেকে নয়তো কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছে৷ অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কোঅপারেশন (ওআইসি)-র সদস্য ৫৭টি দেশের মধ্যে দশটি দেশও খামেনেই হত্যার নিন্দা করেনি৷
এ ছাড়াও অতীতে ভারতের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে খামেনেইয়ের অনভিপ্রেত মন্তব্যও নয়াদিল্লির এই অবস্থানের পিছনে অন্যতম কারণ হতে পারে৷ ২০১৭ সাল থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে কখনও কাশ্মীর, ৩৭০ ধারা বিলোপ, কখনও সিএএ আবার কখনও দিল্লির হিংসা নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন খামেনেই৷ যা ভারত একেবারেই ভালভাবে নেয়নি৷ প্রত্যেক বারই ইরানের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে সতর্ক করে খামেনেইয়ের মন্তব্যকে অনভিপ্রেত বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল নয়াদিল্লি৷
