অভিযুক্ত দীপক একদা ছিলেন দ্বাদশ শ্রেণির টপার৷ তুখোড় মেধাবী ছাত্রই বর্তমানে ‘সাইকো কিলার’! পুলিশের ধারণা তেমনই৷ ঘটনাটি ঘটে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে৷ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, ওই রাতেই নিজের বাড়িতেই রক্তাক্ত তাণ্ডব চালিয়ে পরিবারের তিন সদস্যকে খুন করে দীপক৷ তিন খুনের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশ অভিযুক্ত দীপক ধুরভেকে গ্রেফতার করে আদালতে পেশ করে।
advertisement
আরও পড়ুন: ‘যতদিন আমি আছি, সুযোগ করে দেব’, প্রতীক উরের মতো অন্য দলের তরুণ নেতাদের বার্তা অভিষেকের!
আদালতের নির্দেশে তাকে দু’দিনের জন্য বেতুল জেলা হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। সেখানেও তার হিংস্র আচরণ প্রকাশ পায়। অভিযুক্ত হাসপাতালের একটি খাট পর্যন্ত ভেঙে ফেলে, ফলে হাসপাতালের কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
দীপকের চিকিৎসায় যুক্ত চিকিৎসকদের দাবি, তার মানসিক অবস্থা স্বাভাবিক নয়। সামান্য বিষয়েও সে উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং হাতে যা পায়, তা দিয়েই সামনে থাকা ব্যক্তিকে আঘাত করার চেষ্টা করে।
বেতুল জেলে মানসিক রোগীদের জন্য আলাদা সেল না থাকায় দীপককে সেখানে রাখা সম্ভব হচ্ছিল না। তাই আদালতের নির্দেশে দীপক ধুরভেকে গোয়ালিয়র জেলে পাঠানো হয়েছে। তাকে স্থানান্তর করতে পুলিশকে অচেতন করতে হয়। ১১ জন পুলিশকর্মীর একটি দল এবং তার দুই আত্মীয়কে সঙ্গে পাঠানো হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তের চিকিৎসা চলবে এবং সে বিচারবিভাগীয় হেফাজতেই থাকবে।
ঠিক কী ঘটেছিল সে রাতে?
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ গভীর রাতে বেতুল জেলার কোতওয়ালি থানার অন্তর্গত সাভাঙ্গা গ্রামে দীপক ধুরভে তার মা কমলতি ধুরভে, বাবা রাজু ধুরভে এবং ছোট ভাই দিলীপ ধুরভেকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। বাড়িতে থাকা ৫ বছরের ভাইপো বিজয়ের উপরও হামলা চালায়, কিন্তু সুযোগ বুঝে সে লুকিয়ে পড়ায় প্রাণে রক্ষা পায়। এরপর অভিযুক্ত বাড়ির পোষা বিড়ালটিকেও নির্মমভাবে হত্যা করে।
২০ ফেব্রুয়ারি সকালে এক গ্রামবাসী কোনো কাজে রাজু ধুরভের বাড়িতে এসে রক্তাক্ত দেহগুলি দেখে হতবাক হয়ে যান এবং সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা খুলে ভেতরের ভয়াবহ দৃশ্য দেখে স্তম্ভিত হয়ে যায়। ঘরের ভেতরে রক্তে ভেজা তিনটি দেহ পড়ে ছিল এবং অভিযুক্ত দীপক ধুরভে সেখানেই উপস্থিত ছিল।
