ওই প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেছেন, ইঞ্জিনিয়ারের উদ্ধারকাজে এসেও নানা ঠান্ডা জল, নির্মীয়মান এলাকা, কম দৃশ্যমানতা ইত্যাদি নানা ‘অজুহাতে’ সোক্টর ১৫০ র ওই নির্মীয়মাণ জলভর্তি বেসমেন্টে নামতে চাইছিলেন না৷
মোনিন্দর নামের ওই ডেলিভারি এজেন্ট বলেছেন, ‘‘রাত পৌনে ২টো নাগাদ আমি ঘটনাস্থলে পৌঁছই৷ যখন দেখলাম উদ্ধারকর্মীরা সেরকম কিছু করতে পারছে না, তখন আমি জলে ঝাঁপিয়ে পড়ি৷ ’’
advertisement
মনিন্দর জানান, ‘‘তখন প্রচুর কুয়াশা ছিল৷ একটা গলি মিস করে ফেলেছিল গাড়িটা আর গর্তে পড়ে যায়৷ ছেলেটা তখন ওর বাবাকে ফোন করে৷ ওর বাবা-ই পুলিশকে বিষয়টা জানায়৷ পুলিশ ঠিক সময়েই আসে৷ ২০ মিনিট পরে দমকলের লোকও আসে৷’’
কিন্তু, ওই এজেন্টের অভিযোগ দমকল বিভাগ ঠিক মতো পদক্ষেপ করলে ছেলেটিকে বাঁচাতে পারত৷ ঘটনার কথা মনে করে মনিন্দর বলেন, ‘‘ওই সময় ছেলেটি ২০-২৫ ফুট মতো দূরে গাড়ির ছাদে দাঁড়েছিল৷ সমানে বলে যাচ্ছিল, ‘আমি মোবাইল ফোনের টর্চ থেকে আলো দেখাচ্ছি, প্লিজ আমাকে বাঁচান’, কিন্তু কেউ জলে নামেনি ওঁকে বাঁচানোর জন্য৷’’
মনিন্দর বলেন, ‘‘ওঁরা (উদ্ধারকারীরা) বলছিল এটা বেসমেন্ট এবং অনেক লোহার রড রয়েছে, আর জলটাও খুব ঠান্ডা,. ওরা বলছিল জলে নামলে ওদের বিপদ হতে পারে৷’’
ওই ডেলিভারি এজেন্ট জানান, এরপরেই তিনি জামাকাপড় খুলে একটা সেফটি জ্যাকেট পরে একটা দড়ি কোমরে বেঁধে জলে নামেন৷ কিন্তু, যুবরাজকে বাঁচানো যায়নি৷
ওই ডেলিভারি এজেন্ট দাবি করেছেন, দিন ১৫ আগে এক ট্রাক ড্রাইভারও ওখানে পড়ে গিয়েছিল, তিনি মই আর দড়ি দিয়ে ওঁকে উদ্ধার করেছিলেন৷
নিজের বাড়ি থেকে মাত্র কয়েক মিনিট দূরে ছিলেন ওই ইঞ্জিনিয়ার৷ অফিস থেকে নিজে গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন৷ রাতে ঘন কুয়াশা থাকায় বুঝতে না পেরে প্রথমে রাস্তার ধারের একটি নর্দমার পাঁচিয়ে ধাক্কা মারে তাঁর এসইউভি গাড়ি৷ তারপর তা একটি বিল্ডিংয়ের জন্য খুঁড়ে রাখা ২০ ফুট গভীর জলভর্তি গর্তে পড়ে যায়৷ ওখানে যে ওত গভীর ও বড় গর্ত রয়েছে, সে বিষয়ে কোনও বোর্ড, কোনও রিফ্লেক্টর সেখানে রাখা ছিল না৷
টানা ৯০ মিনিট নিজেকে বাঁচানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল ওই তরুণ৷ সাহায্যের আশায় সেকেন্ড গুনছিল৷ শেষ চেষ্টায় ডুবন্ত গাড়ির ভিতর থেকে ফোনের আলোটা জ্বালিয়েও নিজের লোকেশন জানাতে চেয়েছিল৷ কিন্তু বাঁচতে পারেনি৷ ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথে সেই ২০ ফুট গভীর পিট থেকেই উদ্ধার হয় তাঁর নিথর দেহ৷
