বাজেট বিতর্কে অংশ নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, “মৃত্যুর পর ধূপকাঠি জ্বালাতেও জিএসটি দিতে হয়।” এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে সীতারমণ বলেন, “বাংলায় মৃত্যুর পর জিএসটি—এ দেওয়া খুবই দুর্ভাগ্যজনক। হয়তো মৃত্যুর পর ‘কাটমানি’ নেওয়াই সেখানে নিয়ম।” পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, সাধারণ মানুষের উপর চাপ কমাতে চাইলে পশ্চিমবঙ্গে পেট্রলের দাম কেন ১০ টাকা বেশি? এভাবেই তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারকে নিশানা করেন।
advertisement
আরও পড়ুনঃ হাসিনা-পরবর্তী জমানায় প্রথম ভোট বাংলাদেশে! তার আগেই ট্রেনে যে দৃশ্য দেখা গেল, মাথায় হাত সকলের!
আরজি কর কাণ্ড ও নারীদের বিরুদ্ধে অগ্রাসনের প্রসঙ্গ টেনে অর্থমন্ত্রী বলেন, “একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী যদি মহিলাদের রাতের বেলা বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেন, তা অত্যন্ত দুঃখজনক।” তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে। “বাংলা এখন আইনের শাসনে নয়, বোমা সংস্কৃতিতে চলছে,” মন্তব্য করেন তিনি।
এদিন বক্তৃতায় সীতারমণ কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬–২৭-এর গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলিও তুলে ধরেন। তিনি জানান, রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে সহায়তাসহ ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষে কার্যকর মূলধনী ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭.১ লক্ষ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৪.৪ শতাংশ। এর লক্ষ্য ‘বিকশিত ভারত’-এর স্বপ্ন পূরণ।
লোকসভায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানান, চলতি বাজেটে ডানকুনির উল্লেখ করা হয়েছে পূর্ব-পশ্চিম করিডর গড়ে তোলার লক্ষ্যেই। তিনি বলেন, “আমরা ডানকুনি থেকে সুরত পর্যন্ত একটি ইস্ট-ওয়েস্ট করিডর তৈরি করতে চাই। তাই এই বাজেটে ডানকুনির কথা বলা হয়েছে।” এ প্রসঙ্গে তিনি পশ্চিমবঙ্গের নেতাদের সমালোচনা করে বলেন, “বাংলার কিছু নেতা বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন এই প্রকল্প ঘোষণা করেছিলেন এবং আমরা নতুন কিছু করছি না। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা।”
এছাড়াও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) শিক্ষায় জোর, উদ্যোগপতিত্ব বৃদ্ধি, পরিকাঠামো সম্প্রসারণ ও শিল্পোন্নয়নের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। মেগা টেক্সটাইল পার্ক, দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প ও লজিস্টিক ব্যবস্থার উন্নতিতে রাজ্যগুলির সঙ্গে একযোগে কাজ করতে কেন্দ্র প্রস্তুত বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহেই লোকসভায় বাজেট নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজ্যসভায় বৃহস্পতিবার এই বিতর্কের জবাব দেবেন নির্মলা সীতারামন।
