দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া-তে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ নভেম্বর উত্তর প্রদেশের সমহোন এবং ভারথানা স্টেশনের মাঝে আরতি যাদব নামে ৩০ বছর বয়সি এক মহিলার দেহ উদ্ধার হয়৷ সেই ঘটনায় সন্তোষ কুমার নামে একজন টিটিই-কে অনিচ্ছাকৃত খুনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ৷
জানা গিয়েছে, কানপুর সেন্ট্রাল স্টেশন থেকে নয়াদিল্লির সেনা হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে যাওয়ার সময় ভুল ট্রেনে উঠে পড়েছিলেন আরতি৷ মঙ্গলবার রাতে বারাউনি- নিউ দিল্লি ক্লোন স্পেশ্যাল ট্রেনে ওঠার কথা ছিল তাঁর৷ সেই ট্রেনটি দশ ঘণ্টা দেরিতে চলছিল৷ তাই ভুল করে পটনা- আনন্দ বিহার স্পেশ্যাল ফেয়ার ট্রেনে উঠে পড়েন আরতি৷
advertisement
আরতির বাবা অনিল কুমার এফআইআর-এ অভিযোগ করেছেন, ট্রেনের এস ১১ কামরায় উঠে পড়েছিলেন আরতি৷ সেখানেই তাঁর টিকিট দেখতে চান সন্তোষ কুমার নামে ওই টিকিট পরীক্ষক৷ ভুল ট্রেনে উঠে পড়ায় আরতির যাত্রা নিয়ে আপত্তি তোলেন তিনি৷
ট্রেনের কামরায় থাকা গাজিয়াবাদের বাসিন্দা রাজ বৈভব নামে এক ব্যক্তির অভিযোগ, প্রথমে আরতির মালপত্র ট্রেন থেকে ছুড়ে ফেলে দেন ওই টিকিট পরীক্ষক৷ এর পর আরতিকেও ধাক্কা মেরে ট্রেন থেকে ফেলে দেন তিনি৷ রেল লাইনের ধারে যেখানে ওই মালপত্র পড়েছিল, সেখান থেকে চার কিলোমিটার দূরে আরতির দেহ উদ্ধার হয়৷
আরতির স্বামী অজয় যাদব জানিয়েছেন, ঘটনার তিন দিন আগেই মুম্বই থেকে কানপুরে নিজের বাপের বাড়িতে গিয়েছিলেন আরতি৷ অজয়ের কর্মস্থল মুম্বইয়ে৷ ঘটনার সময় প্রশিক্ষণের জন্য চেন্নাইয়ে ছিলেন তিনি৷
তবে এখনও অভিযুক্ত টিকিট পরীক্ষককে পুলিশ গ্রেফতার করেনি৷ এটাওয়ার জিআরপি-র সার্কেল অফিসার উদয়প্রতাপ সিং জানিয়েছেন, প্রাথমিক ভাবে মনে হচ্ছে ওই মহিলা যাত্রী ট্রেন থেকে ঝাঁপ দিয়েছেন৷ যদিও আমরা গোটা ঘটনার তদন্ত করে দেখছি এবং অন্যান্য যাত্রীদের বয়ান রেকর্ড করছি৷ যদিও জিআরপি-র এই দাবি খারিজ করে দিয়েছেন মৃতার বাবা৷
উত্তর মধ্য রেলের জনসংযোগ আধিকারিক শশীকান্ত ত্রিপাঠীও জানিয়েছেন, অভিযুক্ত টিকিট পরীক্ষক সন্তোষ কুমার এখনও ডিউটি করছেন৷ জিআরপি গোটা ঘটনার তদন্ত করে দেখছে৷
