সম্প্রতি সর্বভারতীয় সংবাদসংস্থা ANI-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইন্না মাকান জানান, গত ৩ ফেব্রুয়ারি সাহিল অফিসে যাচ্ছিলেন। অভিযুক্ত কিশোর তার বোনকে নিয়ে স্করপিও গাড়িতে রিল বানানোর উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘‘ভিডিওতেই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে কী ভয়ঙ্কর গতিতে গাড়ি চালানো হচ্ছিল। সে উল্টো লেনে গিয়ে বাসের সামনে স্টান্ট করছিল। বাসের বাঁ দিকে একটি ই-রিকশা থাকায় আমার ছেলে ডান দিকে তাকিয়েছিল ফাঁকা জায়গা আছে কি না দেখার জন্য। ঠিক সেই সময় স্করপিওটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা মারে এবং রাস্তার পাশে দাঁড়ানো একটি গাড়িতে আঘাত করে। ধাক্কার পরও চালক ব্রেক কষেনি৷’’
advertisement
সাহিলের মায়ের আরও অভিযোগ, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আগেও একাধিকবার গতির সীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে৷ তা সত্ত্বেও তার বাবা তাকে গাড়ি চালানো থেকে বিরত রাখেননি। ‘‘লাইসেন্স ছাড়াই গাড়ি চালাচ্ছিল। রিল বানানোর জন্যই তারা বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। আমার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে তাদের বিনোদনের জন্য,” বলেন শোকাহত মা৷ তাঁর দাবি, অভিযুক্ত ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
ইন্না মাকান আরও জানান, প্রথম ধাক্কার পরও গাড়ির গতি কমানো হয়নি। স্করপিওটি ট্যাক্সিকে ধাক্কা মারে, ট্যাক্সি আবার বাসে গিয়ে লাগে। ঘটনাস্থল থেকে বাসচালক পালিয়ে যান বলে অভিযোগ। পরে সাধারণ মানুষ অভিযুক্তদের ধরে ফেলে। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, দ্বারকা সাউথের লাল বাহাদুর শাস্ত্রী কলেজের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
সকাল প্রায় ১১টা ৫৭ মিনিটে একটি পিসিআর কল পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনটি ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে। সাহিল ধনেশরাকে ঘটনাস্থলেই মৃত ঘোষণা করা হয় এবং আহত ট্যাক্সিচালককে আইজিআই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, লাইসেন্সবিহীন অভিযুক্ত কিশোরকে আটক করে কিশোর বিচার বোর্ডের সামনে তোলা হয়। ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ তার দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার কথা বিবেচনা করে তাকে অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়া হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে৷
