মুখ্যমন্ত্রী বলার সময়েই তাঁকে থামালেন প্রধান বিচারপতি। প্রধান বিচারপতি বললেন, “দুঃখিত ম্যাডাম আপনাকে বিরক্ত করছি।” ৫ মিনিট বলার অনুমতি চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী । প্রধান বিচারপতি বললেন, ”৫ মিনিট কেন? আপনি ১৫ মিনিট বলতে পারেন, তাতে অসুবিধা নেই। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মামলায় আইনজীবীরা সওয়াল করছেন।” একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, ”পশ্চিমবঙ্গ সরকার একটি মামলা করেছে। এই আদালতের অন্যতম সেরা আইনজীবীরা সেখানে উপস্থিত রয়েছেন। কপিল সিব্বল সেখানে সওয়াল করছেন।”
advertisement
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলা শুরু করলেন, ”আমাকে যদি অ্যালাও করেন, আমি কি বলতে পারি? কারণ আমি এই রাজ্যের”। প্রধান বিচারপতি বলেন, ” আমরা সেটা অস্বীকার করি কীভাবে”। মমতা ফের বলেন, ”আমাদের আইনজীবীরা লড়াই করছেন। আমরা যখন কোথাওই জাস্টিস পাচ্ছি না, আমি ৬টা চিঠি লিখেছি। একটারও জবাব পাইনি। আমি হয়তো বন্ডেড লেবার হতে পারি”
প্রধান বিচারপতি বলার পর মমতা ফের বলেন। ”আপনি যদি আমাকে অ্যালাও করেন, আমি কিছু ছবি আপনার কাছে পেশ করতে চাই। স্যার, শুধু নাম বাদ দেওয়ার জন্য। সংযুক্ত করার জন্য নয়। ওঁদের এসআইআর শুধু নাম বাদ দেওয়ার জন্য । নাম যোগ করার জন্য নয়। একজন মহিলার বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর তাঁদের পদবি বদল হওয়ায় নাম বাদ দেওয়া হয়। টিকানা বদলে যাওয়ায় নাম বাদ দিচ্ছে। আধার কার্ডকে অনুমতি দেওয়ার জন্য রাজ্যের মানুষ খুশি, ধন্যবাদ জানাই শীর্ষ আদালতকে। কিন্তু তারা নিচ্ছে না।”
ফের মমতা বলেন, ”আপনি যখন লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা দিতে বলেছেন, তখন সেই রায়কেও ভায়োলেট করেছে। ওরা অন্য নথির সঙ্গে আধার গ্রহণ করছে। আপনারা বলার পরও আধার গ্রহণ করছে না। একাধিক নথি গ্রহণ করছে না। বাংলাকে টার্গেট করা হচ্ছে। নির্বাচনের আগে কেন এত তাড়াহুড়ো করে এসআইআর? একশোর বেশি মানুষ মারা গিয়েছেন। বিএলওরা মারা গিয়েছেন। ওরা লিখে গিয়েছেন। ১০০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অনেকে হাসপাতালে।”
সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করতে গিয়ে মমতা ফের বলেন, ”কেন বাংলাকে টার্গেট করা হচ্ছে? কেন অসমে করা হচ্ছে না? শুধুমাত্র বাংলায় কেন? শুধু হয়রানি জন্য এতকিছু। AERO, ERO, DEO, BLO কারোর কোনও ক্ষমতা নেই। তাঁদের ওপর সুপারসিড করে কমিশন এসব করছে। বিএলও, এইআরও, ইআরওদের কোনও ক্ষমতা নেই। বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে আধিকারিক আনা হচ্ছে। হোয়াটসঅ্যাপ কমিশন বলছে একমাত্র মাইক্রো অবজারভারদের ক্ষমতা রয়েছে। একটাই সমস্যা, তাঁরা কোনও নথি গ্রহণ করছেন না। সরকারের শংসাপত্র গ্রহণ করছে না।”
মমতার দাবি, ”আমাদের বিরোধী আইনজীবীরা যে বক্তব্য রেখেছেন সেটা সত্যি নয়। আমার ছোট রাজ্য আমাদের কাছে অত এসডিএম নেই, আমি দিয়েছি। বাংলাকে টার্গেট করা হচ্ছে। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির কেস নিজের মতো খারিজ করে দেওয়া হোক। বিএলওদের সহযোগিতায়। রাজ্যকে বুলডোজ করছে কমিশন। অন্য রাজ্যের থেকে পশ্চিমবঙ্গে কমিশন আলাদা।” শুনানির শেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ”সেভ ডেমোক্রেসি। আমরা খুব গ্রেটফুল। দয়া করে মানুষের অধীকার রক্ষা করুন”
