শেষ পাওয়ার খবর অনুযায়ী, বিএমসি-র ২২৭ টি ওয়ার্ডে বিজেপি এগিয়ে ৯৫টি ওয়ার্ডে৷ একনাথ শিণ্ডের শিবসেনা ২৯টিতে৷ উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা এগিয়ে ৭১টি ওয়ার্ডে, রাজ ঠাকরের মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা ১০টি ওয়ার্ডে৷ মুম্বইয়ে খাতা খুলতে পারেনি এনসিপি-র কোনও পক্ষই৷ পুণের পওয়ার-ও হাতছাড়া তাদের৷ মুম্বইয়ের মতো পুণে পুরসভাও দখল করতে চলেছে বিজেপি৷
advertisement
গত ১৫ জানুয়ারি মহারাষ্ট্রের ২৯টি পুরসভায় হয় ভোটগ্রহণ৷ তার মধ্যে মুম্বই, পুণে এবং ঠাণে পুরসভার দিকে রাজনৈতিক কারণেই নজর ছিল বেশি৷ শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে শুরু হয় গণনা পর্ব৷ ১২টার মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে যায় ছবি৷ সাড়ে ১২টার মধ্যেই ২২৭ ওয়ার্ডের পুরসভার ম্যাজিক ফিগার টপকে তিন অঙ্কে পৌঁছে যায় বিজেপি নেতৃতাধীন ‘মহাজুটি’ জোট৷ অপরদিকে, তখনও সেই ৬৪-এই আটকে উদ্ধবের শিবসেনা৷ কংগ্রেস আটকে ১৪-এ৷ পুণে এবং নাগপুরেও তখন এগিয়ে বিজেপি৷ শিন্ডের শিবসেনা এগিয়ে পুণে পুরসভায়৷
দুপুর সাড়ে ৩টো নাগাদই মুম্বইয়ের নারিমন পয়েন্টের বিজেপির রাজ্য কার্যালয়ে পৌঁছে যান মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ৷ বিজেপির দিল্লির কার্যালয়েও শুরু হয়ে যায় জয়ের উৎসব৷
২০১৭ সালে শেষ বার ভোট হয়েছিল বৃহন্মুম্বই পুরসভার। তারপর দীর্ঘ ৯ বছর পরে নির্বাচন৷ সে বার ২২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৮৪টিতে জিতে বৃহত্তম দল হয়েছিল উদ্ধবের নেতৃত্বাধীন অবিভক্ত শিবসেনা। ২০১৯ পর্যন্ত বিজেপির সমর্থনে পুরসভা চালালেও সে বছর বিধানসভা ভোটের পর এনডিএ ছাড়েন উদ্ধব। তারপর কংগ্রেস এবং এনসিপির সমর্থনে পুরসভা চালাচ্ছিল তাঁর দল। কিন্তু মেয়াদ ফুরোনোর পরে ২০২২ সালের মার্চ মাসে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছিল।
বৃহন্মুম্বই পুরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ২০ বছরের পারিবারিক শত্রুতা ভুলে এক হয়েছিলেন উদ্ধব এবং রাজ ঠাকরে৷ উস্কে দিয়েছিলেন মরাঠা আবেগ৷ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তাঁরা নির্বাচিত হলে মুম্বইয়ের মেয়র একজন মরাঠাই হবে৷ জনসাধারণের কাছে আর্জি জানিয়েছিলেন, ‘বাটেঙ্গে তো কাটেঙ্গে৷’ তবুও লাভ হল না কিছু৷ উদ্ধবের শিবসেনা লড়ছিল ১৬০টি ওয়ার্ডে, বাকি ৫৩ ওয়ার্ডে রাজ ঠাকরের এমএনএস৷
বৃহস্পতিবারের ফলাফলের পরে দুই ভাইয়ের এই জোটকে ‘রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার সমঝোতা’ বলে উল্লেখ করছে বিজেপি৷ অন্যদিকে, শিন্ডের শিবসেনার নেতা মিলিন্দ দেওড়ার কথায়, ‘‘মুম্বইয়ের রাজনীতি থেকে নাটকের যুগ শেষ৷ মানুষ মেলোড্রামা, মসালার চেয়ে শহরের উন্নয়নকেই গুরুত্ব দিয়েছে৷’’
