পশ্চিম এশিয়ার ঘটনাবলির প্রভাব নিয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বন্দর, নৌপরিবহণ ও জলপথ মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা বলেন, ‘‘ভারতগামী ১০টি বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজের মধ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি), চারটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কার এবং তিনটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী জাহাজ রয়েছে৷ আর ১৮টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজের মধ্যে তিনটি এলপিজি ট্যাঙ্কার, একটি এলএনজি ক্যারিয়ার এবং চারটি অপরিশোধিত তেল ট্যাঙ্কার রয়েছে৷।’’ তিনি বলেন, একটি খালি ট্যাঙ্কারে এলপিজি ভরা হচ্ছে এবং এই জাহাজগুলিতে ৪৮৫ জন নাবিক রয়েছেন।
advertisement
পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান সংঘাতের মধ্যে সংকীর্ণ হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে যাতায়াত সমস্যার হয়ে পড়ায় আরও প্রায় ৫০০টি জাহাজের মধ্যে এই জাহাজগুলিও রয়েছে৷ সিনহা বলেন, ‘‘সরকারের অগ্রাধিকার হল ভারতগামী পণ্যবাহী ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যেতে দেওয়া নিশ্চিত করা৷’’
তিনি বলেন , “ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা শুধু হরমুজ প্রণালীই নয় ; এর বাইরের এলাকাগুলোও উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার (HRA) অন্তর্ভুক্ত।” তিনি আরও যোগ করেন যে, যুদ্ধের আগে বাণিজ্যিক প্রিমিয়াম যা বিমাকৃত মূল্যের ০.০৪ শতাংশ ছিল, তা এখন বেড়ে গেছে। তিনি বলেন, “একটি ক্ষেত্রে, প্রিমিয়াম এখন বিমাকৃত মূল্যের ০.৭ শতাংশ, এবং এটি আরও বেশিও হতে পারে।”
২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইৃজরায়েল ইরানের উপর বোমা হামলা শুরু করলে যুদ্ধ শুরু হয়৷ হামলার প্রতিশোধ নিতে ইরান হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে সীমিত করে দেয়৷ প্রসঙ্গত, এই প্রণালীটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ৷ এখান দিয়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ পরিবহণ করা হয়।
তবে, ইরান গত সপ্তাহে বলেছে যে, ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের পর “অশত্রুভাবাপন্ন জাহাজ” এই জলপথ দিয়ে চলাচল করতে পারবে। ইতিমধ্যেই, ভারতের উদ্দেশে রওনা দেওয়া ৮টি জাহাজ হরমুজ অতিক্রম করেছে৷
