কেরলে নির্বাচনের ঠিক আগে এক সাক্ষাৎকারে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ন বলেন, “রাহুল গান্ধি কার্যত বিজেপির বি-টিমের নেতা হিসেবে কাজ করছেন। এটাই দেশবাসীর অভিজ্ঞতা। তাঁর পদগুলো বার বার বিজেপিকে সাহায্য করেছে,” তিনি বলেন। বিজয়ন দাবি করেছেন যে দিল্লি ও হরিয়ানার মতো রাজ্যগুলিতে বিরোধী ঐক্যকে দুর্বল করেছে কংগ্রেস। তিনি অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি দলটির অবস্থানের দিকেও ইঙ্গিত করে নিরবচ্ছিন্ন সমর্থনের অভাবের অভিযোগ তুলেছেন।
advertisement
বিজেপি প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিজেপি কেরলে একটিও আসন জিতবে না। তারা কিছুটা অগ্রগতি করেছে, কিন্তু জেতার জন্য বা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করার জন্য তা যথেষ্ট হবে না।” তাঁর মতে কেরলের নির্বাচনী লড়াই হবে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী)-র নেতৃত্বাধীন এলডিএফ এবং কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ-এর মধ্যে। এলডিএফ তাদের শেষ ঘাঁটি ধরে রাখতে এবং টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসতে লড়ছে, আর ইউডিএফ রাজ্যে আবার ক্ষমতায় ফেরার অপেক্ষায় রয়েছে।
কেরলে সিপিআই(এম)-এর নেতৃত্বাধীন এলডিএফ যে কোনও ধরনের সাম্প্রদায়িকতার বিরোধী এবং সাম্প্রদায়িক কার্যকলাপে জড়িত কোনও গোষ্ঠীর সমর্থন চায় না, সম্প্রতি আর এক সাক্ষাৎকারে দাবি মুখ্যমন্ত্রী বিজয়নের। ঐতিহ্য়বাহী শবরীমালা মন্দিরে স্বর্ণ লোপাটের বিষয় প্রসঙ্গে বিজয়ন বলেন যে, এই মামল কেরল হাইকোর্টে বিচারাধীন এবং কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ-এর বিপরীতমুখী দাবি সত্ত্বেও হাইকোর্ট তদন্তে কোনও ত্রুটি খুঁজে পায়নি।
তিনি আরও বলেন যে, সরকারের অবস্থানও স্পষ্ট যে এই বিষয়ে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং তাই, আগামী ৯ এপ্রিলের বিধানসভা নির্বাচনে এই ইস্যুতে সিপিআই(এম)-এর বিরুদ্ধে বিরোধী দলের অভিযোগের কোনও প্রভাব পড়বে না। সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন যে, রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করার জন্য কেরলে উচ্চশিক্ষা খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে।
বিজয়নের আরও অভিযোগ যে, ওয়ানাদ পুনর্বাসনের জন্য আর্থিক সাহায্যের বিষয়-সহ বিভিন্ন ইস্যুতে কেরলের প্রতি বৈরী মনোভাব দেখাচ্ছে কেন্দ্র ৷ কেন্দ্রীয় সরকার কেরলকে অনেক সাহায্য করেছে, এই মর্মে বিজেপি রাজ্য সভাপতি রাজীব চন্দ্রশেখরের এই মন্তব্যকে “অযৌক্তিক” বলে আখ্যা দিয়েছেন প্রবীণ বামনেতা।
প্রসঙ্গত কেরলের ১৪০ সদস্যের বিধানসভার জন্য আগামী ৯ এপ্রিল এক দফায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং এর ফলাফল ৪ মে ঘোষণা করা হবে।
