বেঙ্গালুরু: EVMs, অর্থাৎ, Electronic Voting Machines -এর উপরে কতটা ভরসা করেন ভোটাররা? তাঁরা কি মনে করেন ভারতীয় নির্বাচন ব্যবস্থা স্বচ্ছ? নাকি, সমর্থন করেন ‘ভোট চুরি’র তত্ত্ব? কর্ণাটক মনিটারিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন অথরিটি (KMEA) নামের একটি সংস্থার সমীক্ষায় যে তথ্য উঠে এল তাতো অস্বস্তি বাড়ল কংগ্রেসের৷ এই সমীক্ষাকে তাঁদের নিজেরই দলের অর্থাৎ, কংগ্রেস পরিচালিত কর্ণাটক সরকারের বলে চূড়ান্ত কটাক্ষ করতে ছাড়ল না বিজেপি৷ যদিও এই সমীক্ষার সঙ্গে কর্ণাটক সরকারের কোনও রকম যোগসূত্র থাকার কথা অস্বীকার করল কংগ্রেস৷ বিষয়টা ঠিক কী, আসুন জেনে নেওয়া যাক৷
advertisement
জানা গিয়েছে, কর্ণাটক নির্বাচন কমিশনের তরফে ২০২৪ লোকসভা ভোটের প্রেক্ষিতে একটি ভোটার সচেতনতামূলক প্রকল্পের আয়োজন করা হয়েছিল৷ সেই প্রোগ্রামের নাম ছিল সিস্টেম্যাটিক ভোটার্স এডুকেশন অ্যান্ড ইলেক্টোরাল পার্টিসিপেশন (SVEEP) প্রোগ্রাম৷
বেঙ্গালুরু, বেলাগাভি, কালাবুর্গি এবং মাইসুরু এই চার প্রশাসনিক বিভাগের ১০২টি বিধানসভা কেন্দ্রে এই সমীক্ষা চালায়৷ মোট ৫,১০০ জন ভোটার সেই সমীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন৷
আরও পড়ুন: ‘মাঠ জুড়েই খেলবেন দিলীপ’, ছাব্বিশে BJP-র প্ল্যান? নেতার পছন্দের ময়দান কিন্তু খড়্গপুর
সম্প্রতি, কর্ণাটকের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক ভি. আনবুকুমার সেই সমীক্ষায় উঠে আসা তথ্য বিশ্লেষণের দায়িত্ব দিয়েছিলেন KMEA নামের একটি সংস্থাকে৷ যা সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে কর্ণাটকের প্ল্যানিং, প্রোগ্রাম মনিটরিং অ্যান্ড স্ট্যাটিসটিক্স ডিপার্টমেন্টের অধীনে থাকা কর্ণাটক মনিটরং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন অথরিটির নথিতে৷
‘লোকসভা ইলেকশনস ২০২৪: ইভ্যালুয়েশন অফ এন্ডলাইন সার্ভে অফ নলেজ, অ্যাটিটিউড অ্যান্ড প্র্যাকটিস (KAP) অফ সিটিজেনস’ শীর্ষক সেই রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, যাঁদের উপরে সমীক্ষা চালানো হয়েছে, তাঁদের ৯৫.৭৫ শতাংশই ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন এবং তাঁদের মধ্যে ৮৩.৬১ শতাংশই মনে করেন ভারতে স্বচ্ছ নির্বাচন হয় এবং EVM-এর উপরে তাঁদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে৷
আরও পড়ুন: উচ্চ মাধ্যমিক স্তরেও স্থগিত বদলি প্রক্রিয়া, উৎসশ্রী পোর্টাল নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি কমিশনের
সমীক্ষার রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘বিভিন্ন স্তর নির্বিশেষে ৮৩.৬১ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন EVM বিশ্বাসযোগ্য এবং ঠিক রেজাল্ট দেয়৷’ এর জেরে, কংগ্রেসের EVM কারচুপি এবং ‘ভোটচুরি’র অভিযোগ অসত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করছেন কর্ণাটকের বিজেপি নেতারা৷
কর্ণাটক বিজেপির সভাপতি বিওয়াই বিজয়েন্দ্র আনন্দ লিখেন, ‘কংগ্রেসের ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ আবারও অর্থহীন প্রমাণিত হল, কর্ণাটক সরকারের প্রকাশিত সার্ভে রিপোর্টেই প্রমাণিত অধিকাংশ মানুষ মনে তরেন ভারতের নির্বাচনী প্রক্রিয়া স্বাধীন ও স্বচ্ছ৷’’
কর্ণাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিএস ইয়েদুরাপ্পার পুত্র সরাসরি রাহুল গান্ধিকে নিশানা করে বলেন, ‘‘এটা সরাসরি রাহুল গান্ধির কথাকেভুল প্রমাণ করে৷ যিনি একের পর এক নির্বাচনী অসফলতা হজম করতে পারছেন না৷ তাই ভোট চুরির মতো ধারণা আবিষ্কার করছেন৷ নির্বাচন কমিশনের উপরে প্রশ্নচিহ্ন তোলার জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন৷’’
যদিও কংগ্রেস জানিয়েছে এই সমীক্ষার সঙ্গে তাঁদের সরকারের কোনও যোগসূত্র নেই৷ কর্ণাটকের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী প্রিয়ঙ্ক খাড়্গে বলেন, ‘‘যতদূর বুঝতে পারছি নির্বাচন কমিশন, রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে বলেছিল, একটি NGO, যা বালাকৃষ্ণণ বা বালাসুব্রহ্মণ্যম স্বামীর অধীনস্ত, তাঁকে বরাত দিয়েছিল৷’’ অর্থাৎ, সংস্থাটিই বিজেপি ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করেছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের পুত্র৷
সম্প্রতি, সাংবাদিক বৈঠক করে এবং তাড়া তাড়া নথি এনে মঞ্চ থেকে রাহুল গান্ধি কর্ণাটকের কালাবুর্গি সহ অন্যান্য এলাকায় সিস্টেম্যাটিক ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ এনেছিলেন৷ যদিও প্রথম নিই কংগ্রেসনেতার অভিযোগ অস্বীকার করে নির্বাচন কমিশন৷
