পূর্ব রেল বারবার স্থানীয় গ্রামবাসীদের নিয়ে সচেতনতামূলক অভিযান চালিয়েছে যাতে তারা নিজেরা রেললাইনে ঘোরাঘুরি না করেন এবং তাদের গবাদি পশু বা পোষা প্রাণীদের রেললাইনে ছেড়ে না দেন। রেললাইন পারাপার রুখতে প্রাথমিক প্রতিবন্ধক হিসেবে রেলওয়ে ট্র্যাকের পাশে বেড়া বা ‘বেরিয়ার’ তৈরি করছে৷ কিন্তু স্থানীয় মানুষ এগিয়ে না এলে কোনও ব্যারিয়ারই মানুষ বা গবাদি পশুর এই অননুমোদিত পারাপার সম্পূর্ণভাবে রুখতে পারবে না।
advertisement
পুষ্টি সবার অধিকার, তা সে মানুষ হোক বা গবাদি পশু। রেললাইনের পাথরের খাঁজে অনেক সময় বিরল প্রজাতির গাছ জন্মে থাকে। কেউ যদি চারণের জন্য গবাদি পশুদের অবাধে ছেড়ে দেয়, তবে স্বাভাবিকভাবেই তারা সেই সতেজ ও বিরল লতাপাতার স্বাদ নিতে আকৃষ্ট হবে। তাই সাধারণ মানুষকে জোরালো পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যেন তারা তাদের গবাদি পশুদের সঠিকভাবে বেঁধে রাখেন এবং তারা রেললাইনের ধারে ঘুরে বেড়াচ্ছে কি না সে বিষয়ে সতর্ক থাকেন।
উল্লেখ্য যে, পূর্ব রেলে এই বছরের ১লা জানুয়ারি, ২০২৬ থেকে ২৫শে মার্চ, ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৭২টি গবাদি পশু ট্রেনের ধাক্কায় মারা যাওয়ার ঘটনা (Cattle Run-over) নথিবদ্ধ হয়েছে। এর ফলে শুধুমাত্র এই নিরীহ প্রাণগুলোর মৃত্যু হচ্ছে তা-ই নয়, সেই সঙ্গে ট্রেন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে এবং ট্রেন দেরি করে চলছে। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বিভাগগুলো হল সীতারামপুর – মধুপুর, অন্ডাল–আসানসোল, দেওঘর–বাঁকা, সাঁইথিয়া–নলহাটি, ভাগলপুর–বাঁকা, সাহেবগঞ্জ–বারহারওয়া এবং কিউল–ভাগলপুর, যেখানে বারবার এই ধরনের ঘটনা ঘটছে।
আরও পড়ুন: ক্ষমতায় এলে ৪৫ দিনে সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জমি দেবে বিজেপি সরকার! ঘোষণা অমিত শাহের
পূর্ব রেলের প্রধান জনসংযোগ আধিকারিক শ্রী শিবরাম মাঝি জানিয়েছেন যে, রেললাইনের পার্শ্ববর্তী এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশিত। তারা যদি তাদের গবাদি পশুদের সঠিকভাবে দেখাশোনা করেন এবং রেললাইনের কাছে যাওয়া রোধ করেন, তবে লাভ হবে দ্বিমুখী৷ একদিকে যেমন গবাদি পশুর সংখ্যা কমবে না অর্থাৎ গবাদি পশু থেকে আয়ের পথ সচল থাকবে, অন্যদিকে ট্রেনের ধাক্কায় পশু মৃত্যুর কারণে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হবে না এবং যাত্রীরাও স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারবেন।
