হাড় হিম করা এই ঘটনা ঘটেছে উত্তর প্রদেশের আগ্রায়৷ মৃত ওই মহিলা এইচআর ম্যানেজারের নাম মিঙ্কি শর্মা (৩২)৷ ঘটনায় অভিযুক্ত বিনয় সিং (৩০)-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ৷
অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পাশাপাশি নিহত যুবতীর দেহাংশ বস্তায় ভরা অবস্থায় গত ২৪ জানুয়ারি যমুনা নদীর কাছে জওহর ব্রিজের কাছে উদ্ধার করা হয়৷ পরে ওই দেহাংশ আগ্রার তেধি বাগিয়া এলাকার বাসিন্দা মিঙ্কি শর্মার বলে শনাক্ত করা হয়৷ ওই যুবতীকে হত্যার অভিযোগে তাঁর প্রেমিক বিনয় সিং-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ৷ মৃত যুবতীর মাথার খোঁজ শুরু করেছে পুলিশ৷
advertisement
দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া-তে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিঙ্কি এবং বিনয় শহরের সঞ্জয় প্লেস এলাকার একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন৷ মিঙ্কি ছিলেন সংস্থার এইচআর ম্যানেজার৷ বিনয় কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে ওই সংস্থায় চাকরি করতেন৷ সেই সৃত্রেই দু জনের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয়৷ পুলিশ জানিয়েছে, গত দু বছর ধরে তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল৷ কিন্তু শেষ ছ মাস ধরে মিঙ্কি অন্য একজন পুরুষের ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন বলে সন্দেহ করতে শুরু করে বিনয়৷
এই সন্দেহের জেরেই মিঙ্কি এবং বিনয়ের সম্পর্কে চিড় ধরে৷ দু জনের মধ্যে প্রায়শই অশান্তি হত৷ শেষ পর্যন্ত এই অশান্তির জেরে মিঙ্কিকে খুন করে বিনয়৷ গত ২৩ জানুয়ারি দুপুর দুটো নাগাদ অফিস যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বেরোন মিঙ্কি৷ অনেক রাত পর্যন্ত মিঙ্কি না ফেরায় এবং মোবাইল ফোনও বন্ধ থাকায় মিঙ্কির পরিবার ট্রানস যমুনা থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করে৷ এর পরই মিঙ্কির খোঁজ শুরু করে পুলিশ৷
এরই মধ্যে গত ২৪ জানুয়ারি রাত একটা নাগাদ স্থানীয় বাসিন্দারা জওহর ব্রিজের উপরে একটি সন্জেহজনক বস্তা পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়৷ সেই বস্তার ভিতর থেকে এক মহিলার নগ্ন মুণ্ডহীন দেহ উদ্ধার করে পুলিশ৷ শুরু হয় মহিলার পরিচয় জানার চেষ্টা৷
তদন্তে নেমে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ৷ তাতে দেখা যায় একটি অফিস থেকে ওই বস্তা নিয়ে বেরোচ্ছেন বিনয় নামে ওই যুবক৷ পরে স্কুটারে চেপে ওই বস্তা নিয়ে তাকে জওহর ব্রিজের দিকে যেতে দেখা যায়৷ হাইওয়েতেও দেখা যায় বিনয়কে৷ এর পরই বিনয়কে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ৷ তখনই খুনের কথা স্বীকার করে নেয় সে৷
বিনয় জানায়, ২৩ জানুয়ারি সে মিঙ্কিকে অফিসে ডাকে৷ বিনয় জানায়, মিঙ্কি অফিসে পৌঁছনোর পর ফের দু জনের মধ্যে তুমুল বচসা বাঁধে৷ রাগের মাথায় বিনয় মিঙ্কিকে একটি ছুরি দিয়ে কোপাতে শুরু করে৷ মিঙ্কির ঘাড়ের কাছে প্রাণঘাতী আঘাত লাগে৷ মিঙ্কির মৃত্যু হয়েছে বুঝতে পেরে এর পর তাঁর শরীর থেকে মাথা, পা আলাদা করে বিনয়৷ শরীরের বাকি অংশ একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে পার্সেল দিয়ে আটকায় সে৷ মিঙ্কির মাথা একটি পিঠ ব্যাগে ভরে নেয় সে৷ এর পর মিঙ্কির স্কুটারে চড়েই দেহটি যমুনা নদীতে ফেলার উদ্দেশ্যে জওহর ব্রিজের দিকে যায় সে৷ কিন্তু ভারের কারণে বস্তায় ভরা মিঙ্কির দেহ সেতুর উপর থেকে নদীতে ফেলতে পারেনি সে৷ আশেপাশে লোকজন দেখে ঘাবড়ে গিয়ে সেতুর উপরেই বস্তাটি ফেলে রেখে পালায় বিনয়৷ এর পর মিঙ্কির মাথা, পোশাক, মোবাইল ফোন এবং ব্যাগ একটি ড্রেনে ফেলে এবং স্কুটারটিকে একটি ফাঁকা জায়গায় রেখে পালায় সে৷ ধৃতের বিরুদ্ধে খুন, প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ এনে মামলা রুজু করেছে পুলিশ৷ মিঙ্কির পোশাক, স্কুটার এবং খুনে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করেছে পুলিশ৷
