২০১৩ সাল৷ আর পাঁচটা ছেলের মতো পঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে গিয়েছিল হরিশ৷ থাকত, একটা পেয়িং গেস্ট আবাসনে৷ সেই আবাসনের চতুর্থ তলা থেকেই একদিন হঠাৎ পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন তিনি। তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। চিকিৎসাও চলে৷ কিন্তু, ভেজিটেটিভ স্টেট থেকে ফেরানো যায়নি কোয়াড্রিপ্লেজ়িয়ায় আক্রান্ত হরিশকে৷ ছেলের স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন করেন তাঁর বাবা-মা৷ সুপ্রিম কোর্ট হরিশ রানার স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দিয়েছে।
advertisement
হরিশ রানার বাবা অশোক রানা সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা সুপ্রিম কোর্টকে ধন্যবাদ জানাই। আদেশ দেওয়া হয়, কিন্তু প্রায়শই তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হয় না। আমরা, স্বামী-স্ত্রী, এখন বৃদ্ধ। গাজিয়াবাদ এবং নয়ডার সিএমওরা এসেছিলেন। আমরা তাঁদের একটি এইমস বোর্ড আনতে বলেছিলাম। এইমস বোর্ড এসে ছেলের ব্রেন ডেথ ঘোষণা করে।”
হরিশ রানাকে কীভাবে ইচ্ছামৃত্যু দেওয়া হবে? ছেলের কথা উল্লেখ করে অশোক রানা বলেন, “আমরা জানি না কতজন সন্তান এরকম হবে। আমরা সকলের মঙ্গল ও কল্যাণ চাই।” সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অশোক রানা৷ তিনি বলেন, “আজ ভারতে যে আইন কার্যকর হবে তা সাতটি দেশে প্রযোজ্য। একজন বাবা হিসেবে আমি বলছি এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবুও আমরা ছেলেকে এই অবস্থায় দেখতে পারছিলাম না৷ আমরা যে রায় চেয়েছিলাম তা আমাদের ইচ্ছাশক্তির দ্বারা মঞ্জুর করা হয়েছে।”
কী ভাবে হবে এই স্বেচ্ছামৃত্যুর প্রক্রিয়া? তিনি বলেন, প্রথমে হরিশ রানার খাদ্যনালী অপসারণ করা হবে, এবং তারপর তাঁকে অভিজ্ঞ ডাক্তারদের তত্ত্বাবধানে এইমস-এ রাখা হবে। তারপর, তাঁকে ধীরে ধীরে জল সরবরাহ বন্ধ করা হবে। আমরা পূর্ণ সম্মানের সঙ্গে তাঁর মৃতদেহ নিয়ে আসব এবং তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করব। আমার ছেলে টপার ছিল। দুর্ঘটনাটি ঘটে ২০১৩ সালের ২০ আগস্ট। আমরা ভোর ৩টায় পিজিআইতে পৌঁছাই, যেখানে তাঁর মাথায় আঘাত এবং পায়ের তলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল।
বেনজির সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের৷ ইতিহাসে প্রথম৷ দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে ‘ভেজিটেটিভ স্টেট’-এ থাকা গাজিয়াবাদের যুবককে ‘প্যাসিভ ইউথেনেশিয়া’ অর্থাৎ, লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম সরিয়ে দিয়ে ‘স্বেচ্ছামৃত্যু’র অনুমতি দিল সুপ্রিম কোর্ট৷ ৩১ বছর বয়সি ওই যুবক একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর থেকে গত ১৩ বছর ধরে ওই একই ভাবে ভেজিটেটিভ স্টেটে রয়ে গিয়েছেন৷ বিগত কয়েক বছরে তাঁর স্বাস্থ্যে বিন্দুমাত্র কোনও উন্নতি হয়নি৷ ছেলের স্বেচ্ছামৃত্যুর দাবি জানিয়ে আদালতে লড়ছিলেন ওই যুবকের বাবা-মা৷ আজ, বুধবার গাজিয়াবাজের হরিশ রাণার বাবা-মায়ের অনুরোধ মেনে নিল সুপ্রিম কোর্ট৷ দিল হরিশের লাইফ সাপোর্ট প্রত্যাহারের অনুমতি। পাশাপাশি, এদিনের রায়ে আদালত কেন্দ্রকে প্যাসিভ ইউথানেশিয়া সংক্রান্ত একটি আইন আনার কথা বিবেচনা করারও পরামর্শ দিয়েছে৷
