জানা গিয়েছে, পারস্য উপসাগরে নোঙর করা ‘গ্রিন সানভি’ শুক্রবার সন্ধ্যায় ইরানের জলসীমা ব্যবহার করে নির্ধারিত করিডোর ধরে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে। বর্তমানে এটি মুম্বইয়ের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ট্যাঙ্কারে থাকা এলপিজির পরিমাণ দেশের প্রায় অর্ধেক দিনের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। ইরান যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশে এলপিজির চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে।
advertisement
হরমুজ পেরিয়ে মাঝসমুদ্রে ‘ইউ-টার্ন’! ভারতে আসার পথে ইরানি তেলবাহী জাহাজ হঠাৎ কেন ঘুরে গেল চিনের দিকে?
শুভেন্দুর বিতর্কিত মন্তব্য! তৃণমূলের অভিযোগের ভিত্তিতে রিপোর্ট, ভিডিও ফুটেজও তলব কমিশনের
শিল্পমহলের মতে, আরও দুটি ভারতীয় এলপিজি ট্যাঙ্কার—‘গ্রিন আশা’ ও ‘জাগ বিক্রম’—আগামী কয়েক দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে ভারতে পৌঁছতে পারে। বর্তমানে একাধিক ভারতীয় তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ হরমুজে আটকে রয়েছে এবং ইরানের অনুমতির অপেক্ষায় আছে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান-আমেরিকা সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করা সাতটি ভারতীয় জাহাজই এলপিজি ট্যাঙ্কার। ‘গ্রিন সানভি’ পার হওয়ার পর এখন পারস্য উপসাগরে, হরমুজ প্রণালীর পূর্ব দিকে, মোট ১৭টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ অবস্থান করছে। ভারত সরকার ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা চালাচ্ছে, যাতে ভারতীয় জাহাজগুলি নিরাপদে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ পার হতে পারে।
ইরান ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, শুধুমাত্র ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ দেশগুলির জাহাজই হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার অনুমতি পাবে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, চিন, রাশিয়া, ভারত, ইরাক ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলিকে এই জলপথ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। যদিও প্রণালীটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ, তবুও নির্দিষ্ট সমন্বয়ের মাধ্যমে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার সময় ‘গ্রিন সানভি’ স্পষ্টভাবে নিজেদের ভারতীয় জাহাজ এবং ভারতীয় নাবিক বহন করছে বলে সিগন্যাল দেয়। এই ধরনের পরিচয় সম্প্রচার এখন বাধ্যতামূলক হয়ে উঠেছে এবং ইরানের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করেই জাহাজ চলাচল হচ্ছে। উল্লেখ্য, ইরান ও ওমানের মাঝখানে অবস্থিত হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ, যা পারস্য উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করে।
প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহেই ‘জাগ বসন্ত’ ৪৭,৬১২ মেট্রিক টন এলপিজি নিয়ে কাণ্ডলা বন্দরে পৌঁছেছে এবং ‘পাইন গ্যাস’ ৪৫,০০০ মেট্রিক টন এলপিজি নিয়ে নিউ মাঙ্গালোরে এসেছে। এছাড়া ‘বিডব্লিউ টিওয়াইআর’ নামের একটি এলপিজি জাহাজ ইতিমধ্যেই মুম্বইয়ের উপকূলে পৌঁছে পণ্য খালাস শুরু করেছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-আমেরিকা সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। তবে ভারতীয় জাহাজগুলির নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ভারতীয় নৌবাহিনী সক্রিয়ভাবে নজরদারি ও সহায়তা চালিয়ে যাচ্ছে।
