বিক শারীরিকভাবে সুস্থ ছিলেন। তিনি মানসিক যন্ত্রণার কারণে নিজের জীবন শেষ করার অনুমতি চেয়েছিলেন ২০২৪-এ। তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে তাঁর যন্ত্রণা শারীরিক নয়, বরং মানসিক। বছরের পর বছর ধরে চলা বিষণ্ণতা, উদ্বেগ, মানসিক আঘাত এবং আত্মহত্যার চিন্তা তার জীবনকে অসহ্য করে তুলেছিল। প্রায় সাড়ে তিন বছরের একটি প্রক্রিয়ার পর, ২০২৪ সালে তাকে ইচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দেওয়া হয়। নেদারল্যান্ডে মানসিক অসুস্থতার কারণে ইচ্ছামৃত্যুর ঘটনা এখনও কম, কিন্তু তা দ্রুত বাড়ছে। ২০১০ সালে এই ধরনের ঘটনা ছিল মাত্র দুটি, যা ২০২৩ সালে বেড়ে ১৩৮টিতে দাঁড়িয়েছে। সমালোচকরা বলেন যে মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিরা সবসময় সম্পূর্ণ স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না, অন্যদিকে সমর্থকরা যুক্তি দেন যে প্রত্যেক ব্যক্তির নিজের কষ্টের ভিত্তিতে জীবন-মৃত্যুর সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার থাকা উচিত। এ প্রসঙ্গে জোরাইয়া টের বিক নিজেই বলেছেন যে, ‘মানসিক অসুস্থতার অর্থ এই নয় যে একজন ব্যক্তি সঠিকভাবে চিন্তা করতে পারে না।’
advertisement
নেদারল্যান্ডসের পাশাপাশি সুইজারল্যান্ড এমন কয়েকটি দেশের মধ্যে অন্যতম, যেখানে প্রাণঘাতী নয় এমন অসুস্থতা, এমনকি মানসিক অসুস্থতার ক্ষেত্রেও ইচ্ছামৃত্যুর অনুমতি রয়েছে। অন্যদিকে, ইচ্ছামৃত্যু সংক্রান্ত ভারতের আইন অত্যন্ত কঠোর। হরিশ রানার ঘটনাটি এর একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ, যেখানে একজন ব্যক্তি ১৩ বছর ধরে জীবনের জন্য সংগ্রাম করার পর অবশেষে আদালতের অনুমতিতে যন্ত্রণাহীন মৃত্যুবরণ করার সুযোগ পান।
