ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সের্জিও গরের পোস্টেই মিলেছিল ইঙ্গিত৷ সোমবার সন্ধে নাগাদ একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট করে গর জানিয়েছিলেন, নতুন বছরে কথা হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভরতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির৷ তার কিছুক্ষণ পরেই নিজের ট্রুথ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতীয় পণ্যের উপরে ট্যারিফ কমানো সহ, বাণিজ্য চুক্তি বিষযক একাধিক জিনিসের উল্লেখ করেন ট্রাম্প৷
advertisement
এই প্রসঙ্গে মোদি বলেন, ‘দু’টি বৃহৎ অর্থনীতি এবং বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র একসাথে কাজ করলে জনগণের উপকার হয়’। মোদির কথায়, ‘যখন দুটি বৃহৎ অর্থনীতি এবং বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র একসঙ্গে কাজ করে, তখন এটি আমাদের জনগণের উপকার করে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার জন্য প্রচুর সুযোগ তৈরি করে’। এরপরেই ট্রাম্পের ভূয়সী প্রশংসা করেন মোদি৷ জানান, ‘বিশ্ব শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধির জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শান্তির জন্য তাঁর প্রচেষ্টাকে ভারত সম্পূর্ণরূপে সমর্থন করে। আমাদের অংশীদারিত্বকে অভূতপূর্ব উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য আমি তাঁর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য উন্মুখ’।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার দাবি করলেন, আমেরিকা ও ভারত একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হয়েছে, যার ফলে দুই দেশের মধ্যে শুল্কের বোঝা কমবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ফোনে কথা বলার পরে ট্রাম্প জানান, আমেরিকা ভারতীয় পণ্যের ওপর তাদের শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করবে। এই সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিক ভাবে কার্যকর হবে। এর বদলে ট্রাম্প দাবি করেন, ভারত যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের উপর নিজেদের শুল্ক ও শুল্ক-বহির্ভূত বাধা শূন্যে নামিয়ে আনবে।
ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এসব কথা দাবি করেছেন সোমবার। ওই পোস্টে তিনি মোদিকে “আমার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের একজন” বলে উল্লেখ করেছেন এবং জানিয়েছেন, দুই নেতা বাণিজ্য, জ্বালানি সহযোগিতা ও ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করেছেন।
ট্রাম্প লেখেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রতি বন্ধুত্ব ও সম্মান দেখিয়ে এবং তাঁর অনুরোধ অনুযায়ী, আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হয়েছি।”
আরও পড়ুন: নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কথা ডোনাল্ড ট্রাম্পের! মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানালেন, ‘শুনতে থাকুন…’
তিনি আরও বলেন, “তিনি রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে, এমনকি সম্ভাব্যভাবে ভেনেজুয়েলা থেকেও অনেক বেশি তেল কিনবেন। এতে ইউক্রেনের যুদ্ধ শেষ করতে সাহায্য হবে, যেখানে এই মুহূর্তে প্রতি সপ্তাহে হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে।”
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, নয়াদিল্লি আমেরিকার পণ্য ও পরিষেবার ক্রয়ের পরিমাণ বাড়াবে। তিনি বলেন, ভারত “BUY AMERICAN” নীতির আওতায় অনেক বেশি পরিমাণে মার্কিন পণ্য কিনতে সম্মত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৫০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের মার্কিন জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষিপণ্য, কয়লা এবং অন্যান্য রফতানি পণ্য।
