বুধবার সকালে প্রেমচাঁদ পার্ক এলাকায় তাঁদের নিজের বাড়িতে নিথর অবস্থায় পাওয়া যায় অনিতা (২৭) এবং তাঁর তিন কন্যাশিশুকে। মৃত শিশুদের বয়স যথাক্রমে ৩ বছর, ৪ বছর এবং ৫ বছর। চারজনই বিছানায় পড়েছিল রক্তের সাগরে।কার্যত এই হত্যাকাণ্ডে পাঁচটি প্রাণ শেষ হয়ে গিয়েছে। কারণ নিহত অনিতা দু’ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
advertisement
প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের মতে, চারজন নিহতের গলা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে ফেলা হয়েছে। “ক্ষত এত গভীর ছিল যে তাদের শ্বাসনালীও কেটে ফেলা হয়েছিল,” সংবাদ সংস্থাকে এই তথ্য জানিয়েছেন এক পুলিশকর্তা। তদন্তকারীদের মতে এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। তদন্তকারীরা খুনের মোটিভ হিসেবে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের সন্দেহ-সহ সম্ভাব্য সকল দিক খতিয়ে দেখছেন। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে যে, পর পর তিন কন্যাসন্তান জন্মানোর কারণেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। অভিযুক্ত খুনি, অনিতার স্বামী মুনচুন কেওয়াত, ঘটনার পর থেকে ফেরার।
বুধবার সকালে সকালে দম্পতির আত্মীয়স্বজন এবং প্রতিবেশীরা প্রথমে মৃতদেহগুলি দেখতে পান। তার পর খবর দেওয়া হয় পুলিশে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, স্ত্রী ও কন্যাদের উপর আক্রমণ করার আগে তাদের নেশাগ্রস্ত করেছিলেন অভিযুক্ত ঘাতক মুনচুন।
আরও পড়ুন : বিয়ের মঞ্চেই গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়লেন রক্তাক্ত কনে! আততায়ী কি পুরনো প্রেমিক? ভাইরাল ভিডিও
পরিবারটি মূলত বিহারের পটনা জেলার বাসিন্দা। গত দু’ বছর ধরে তাঁরা এই এলাকায় বসবাস করছিলেন এবং এই দম্পতি সাধারণত ঝগড়া করতেন না বলেই জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা। কেওয়াত আজাদপুর বাজারে সবজি বিক্রি করতেন মুনচুন। ক্রাইম অ্যান্ড ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (FSL) টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং নমুনা সংগ্রহ করেছে।
মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরকীয়া, পর পর কন্যাসন্তানের জন্ম-সহ একাধিক কারণকেই মোটিভ হিসেবে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
