নিখিলের অভিযোগ, অভিযুক্ত কাজলের স্বামী অঙ্কুর তাঁকে ফোনের সরাসরি হুমকি দিয়ে বলে ‘বোনকে খুন করতে চলেছে’৷ এমনকি ওই ফোন কলটি হুমকি দিয়ে রেকর্ড রাখতেই বলে৷ নিখিল জানান, ‘‘ও (অঙ্কুর) আমাকে বলল ফোনের কথা রেকর্ড রাখতে৷ বলেছিল এটা পুলিশি প্রমাণ হিসেবে কাজে লাগবে। তারপর বলল সে আমার বোনকে মেরে ফেলছে। এরপর আমি ওর চিৎকার শুনি৷’’
advertisement
তিনি আরও জানান, ‘‘আমাকে ফোন করে বলল তোর বোনকে বোঝা৷ আমি সঙ্গে সঙ্গে আমার বোনকে এরপর ফোন করি৷ তারপর সে আমাকে বলল, ‘এই কলটা রেকর্ডে রাখ, পুলিশি প্রমাণ হিসেবে কাজে লাগবে। আমি তোর বোনকে খুন করছি। পুলিশ আমার কিছুই করতে পারবে না।’ এরপর আমি ওর চিৎকার শুনি। হঠাৎ করেই কলটা কেটে যায়,” তিনি বলেন।
নিখিল আরও জানান, “সচরাচর আমার বোন আমাদের সঙ্গে খুব বেশি কিছু শেয়ার করত না, কিন্তু সেদিন সে তার কষ্টের কথা বলছিল। আমরা কথা বলার সময় অঙ্কুর রেগে যায় যে সে আমাকে সব বলছে, আর তখনই সে ওর হাত থেকে ফোনটা কেড়ে নেয়।”
আরও পড়ুন: বলুন তো কোন ভিটামিনের অভাবে রাতে ঘুমের মধ্যে মুখ দিয়ে লালা ঝরে? কোন সমস্যার লক্ষণ? এখনই জানুন
মাত্র পাঁচ মিনিট পরেই নিখিলের ফোন আবার বেজে ওঠে। “ও (অঙ্কুর) বলল, ‘ও মারা গেছে। হাসপাতালে চলে এসো।’ আমরা পুলিশকে নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছাই। ও আর ওর পরিবার আগে থেকেই সেখানে ছিল। যখন আমি আমার বোনকে দেখলাম… এমনভাবে কাউকে মেরে ফেলে না, শত্রুকেও না,” ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করে জানালেন নিখিল৷
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, অঙ্কুর একটি ডাম্বেল দিয়ে কাজলের মাথা আঘাত করে থেঁতলে দেয়। তাঁর মাথা মারাত্মকভাবে থেঁতলে গিয়েছিল এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। পরিবারের দাবি, কাজল চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন এবং তাঁর দেড় বছরের একটি ছেলে রয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, পণ সংক্রান্ত দাবির কারণে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে নির্যাতন করত। পরিবারের দাবি, বিয়ের মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই অত্যাচার শুরু হয়, যখন অঙ্কুরের পরিবার একটি গাড়ি ও পণের দাবি তোলে।
যনির্যাতনের কারণে কাজল ২০২৪ সালে দিল্লিতে চলে আসেন। তবুও তাঁর স্বামী বারবার টাকা ও গাড়ির দাবি জানাতে থাকে এবং শারীরিকভাবে তাঁকে নিগ্রহ করত বলে অভিযোগ। ২২ জানুয়ারি কাজলকে হত্যা করা হয় বলেই অভিযোগ। ঘটনার রাতেই অঙ্কুরকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে।
