পুলিশি তদন্তে উঠে এল, মোটরসাইকেল নিয়ে যে ওই যুবক যে গর্তের মধ্যে পড়ে গিয়েছেন, তা অন্তত পাঁচ জন জানতেন৷ কিন্তু তাঁদের মধ্যে একজনও ওই যুবককে উদ্ধারে উদ্যোগী হননি৷ যার ফলে দুর্ঘটনার পর প্রায় ৮ ঘণ্টা ওই গর্তের ভিতরে পড়ে থেকে মৃত্যু হয় কমলের৷
এই ঘটনায় রাজেশকুমার প্রজাপতি নামে একজন সাব কন্ট্র্যাক্টরকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ৷ অভিযোগ, দুর্ঘটনার কথা জানা সত্ত্বেও ওই যুবককে উদ্ধারের জন্য পুলিশ অথব সংশ্লিষ্ট কর্ত়ৃপক্ষকে জানানোর প্রয়োজনই বোধ করেননি ওই ঠিকাদার৷ তাঁর বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশ৷
advertisement
দিল্লির জনকপুরী এলাকার যে জায়গায় প্রায় ২০ ফুট গভীর গর্ত খুঁড়ে রাখা হয়েছিল, সেখানে গাড়ি চালকদের সতর্ক করার জন্য কোনও রিফ্লেক্টর, সতর্কতামূলক বোর্ড অথবা আলো লাগানো হয়নি বলে অভিযোগ৷ ফলে গভীর রাতে অন্ধকারের মধ্যে সামনে মৃত্যুফাঁদ দেখতে পাননি কমল৷ নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে গর্তের ভিতরে পড়ে যান তিনি৷
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার কিছু পরে ওই গর্তের মধ্যে পড়ে যান কমল নামে ওই যুবক৷ তার কিছুক্ষণ আগেই এক বন্ধুকে তিনি ফোনে জানিয়েছিলেন, কয়েক মিনিটের মধ্যেই বাড়ি পৌঁছে যাবেন৷ অথচ পুলিশ এবং তাঁর পরিবার এই দুর্ঘটনার কথা জানতে পারে পরের দিন সকাল ৮টা নাগাদ৷ ততক্ষণে মৃত্যু হয় ওই যুবকের৷
পুলিশ জানিয়েছে, বিপিন সিং নামে একজন ব্যক্তি বিয়েবাড়ি থেকে ফেরার সময় প্রথম একটি মোটরসাইকেলকে ওই গর্তে পড়ে যেতে দেখেন৷ দুর্ঘটনাস্থলের কাছেই থাকা এক নিরাপত্তারক্ষীকে বিষয়টি জানান তিনি৷
ওই নিরাপত্তারক্ষী এর পর যোগেশ নামে একজন শ্রমিককে দুর্ঘটনার কথা জানান৷ সেই শ্রমিক ওই গর্তের কাছে গিয়ে দেখেন সত্যিই ভিতরে মোটরসাইকেল নিয়ে একজন যুবক ভিতরে পড়ে রয়েছেন৷ তখনও মোটরসাইকেলের হেডলাইটটি জ্বলছিল৷ ফলে সেই আলোতেই গর্তের ভিতরে কমলকে পড়ে থাকতে দেখেন ওই যোগেশ নামে ওই শ্রমিক৷
যোগেশ নামে ওই শ্রমিকই রাজেশকুমার প্রজাপতি নামে ওই ঠিকাদারকে খবর দেন৷ কয়েক মিনিটের মধ্যেই ওই ঠিকাদার ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছন৷ অভিযোগ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কমল নামে ওই যুবককে গর্তের ভিতরে পড়ে থাকতে দেখলেও পুলিশ খবর দেননি রাজেশ, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে কিছুই জানাননি তিনি৷ এমন কি অ্যাম্বুল্যান্স ডাকা, ইমার্জেন্সি নম্বরে ফোন করা অথবা নিজে ওই যুবককে উদ্ধারের চেষ্টাও করেননি তিনি৷
তার বদলে ওই কাজের মূল ঠিকাদার হিমাংশু গুপ্তকে ফোন করেন রাজেশ৷ এর পর কনফারেন্স কলে যোগ দেন আরও কয়েকজন৷ অথচ তখনও আহত অবস্থায় গর্তের মধ্যে পড়ে থাকেন কমল৷
শেষ পর্যন্ত কাউকে খবর না দিয়েই রাত ১.৪৫ মিনিট নাগাদ দুর্ঘটনাস্থল থেকে চলে যান রাজেশ নামে ওই সাব কন্ট্র্যাক্টর৷ এর পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় যোগেশ নামে ওই শ্রমিকও৷ এক পুলিশকর্তার কথায়, অনেকেই এই দুর্ঘটনার কথা জানতেন৷ অথচ পুলিশ অথবা জরুরি পরিষেবায় বিষয়টি জানানোই হয়নি৷
ইতিমধ্যেই যোগেশ নামে ওই শ্রমিকের খোঁজে উত্তর প্রদেশের এটায় গিয়েছে দিল্লি পুলিশের একটি দল৷ হিমাংশু গুপ্ত নামে ওই ঠিকাদারের খোঁজও শুরু করেছে পুলিশ৷
