পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার ভোররাতে হাসপাতালের কাছেই একটি মন্দির সংলগ্ন এলাকায় পার্ক করা গাড়ির ভিতর থেকে তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। গাড়িটি ভেতর থেকে লক করা ছিল। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, তিনি নিজের শরীরে একটি ক্যানুলার মাধ্যমে বিষাক্ত পদার্থ প্রবেশ করান। গাড়ির ভিতর থেকে ফাঁকা ওষুধের ভায়ালও উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, ড্রিপের মতো একটি ব্যবস্থা তৈরি করে ধীরে ধীরে ওই পদার্থ শরীরে প্রবেশ করানো হয়েছিল।
advertisement
মৃতার পরিবারের অভিযোগ, কর্মক্ষেত্রে হেনস্থার জেরেই এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন তন্বী। তাঁর বাবা, যিনি অম্বালার একজন আয়ুর্বেদ চিকিৎসক, দাবি করেছেন যে বিভাগের প্রধান (HoD)-এর মানসিক চাপ ও আচরণই তাঁর মেয়েকে ভেঙে দেয়। মৃত্যুর আগে তন্বী ফোনে তাঁর বাবাকে এই হেনস্থার কথা জানান বলেও অভিযোগ।
মঙ্গলবার রাত প্রায় ৯টা নাগাদ তিনি বাড়ি থেকে বের হন। পরে ভাইয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে গিয়ে মানসিক চাপে থাকার কথা জানান এবং আর সহ্য করতে পারছেন না বলেও উল্লেখ করেন। এমনকি HoD-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করার কথাও বলেন তিনি।
পাটেলনগর থানায় পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। যদিও পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তের পরই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই চিকিৎসক দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যার চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং অতীতেও দু’বার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁদের দাবি, পরিবারের পক্ষ থেকেও এই বিষয়ে লিখিত সম্মতি জমা দেওয়া হয়েছিল।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরও অভিযোগ করেছে, কিছু ব্যক্তি এই ঘটনাকে ঘিরে ইচ্ছাকৃতভাবে পরিস্থিতি জটিল করার চেষ্টা করছেন, যা চিকিৎসকদের মনোবলে প্রভাব ফেলতে পারে। এই ঘটনায় কর্মক্ষেত্রে হেনস্থার অভিযোগ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়—দুই দিকই গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।
