পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর। দক্ষিণ দিল্লির ড. কর্ণি সিং শুটিং রেঞ্জে অনুষ্ঠিত জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার পর অভিযুক্ত কোচ নাবালিকা শুটারকে পারফরম্যান্স বিশ্লেষণের অজুহাতে ফরিদাবাদের সূরজকুণ্ড এলাকার একটি হোটেলে দেখা করতে বলেন। প্রথমে হোটেলের লবিতে দেখা করার কথা থাকলেও, অভিযোগ অনুযায়ী কোচ তাঁকে জোর করে নিজের ঘরে নিয়ে যান এবং সেখানেই যৌন হেনস্থার ঘটনা ঘটে।
advertisement
আরও পড়ুনঃ অফিস টাইমেই ভয়াবহ আগুন! মুহূর্তে আগুনের গ্রাসে একের পর এক তলা, নিউটাউনে ভয়াবহ পরিস্থিতি
এফআইআরে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে খেলোয়াড়ির কেরিয়ার ধ্বংস করে দেওয়া এবং পরিবারের ক্ষতি করার হুমকিও দেন অভিযুক্ত কোচ। পরে নির্যাতিতার মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে এনআইটি ফরিদাবাদের মহিলা থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
এই ঘটনায় অভিযুক্ত অঙ্কুশ ভরদ্বাজের বিরুদ্ধে পকসো আইনের ৬ নম্বর ধারা এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫১(২) ধারা অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়েছে। ফরিদাবাদ পুলিশের জনসংযোগ আধিকারিক যশপাল যাদব বলেন, “মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে ঘটনার দিনের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ দ্রুত হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে, যাতে নাবালিকার অভিযোগ যাচাই করা যায়।”
এদিকে, ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (NRAI)-র সেক্রেটারি জেনারেল পবন কুমার সিং জানান, “মিডিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোচ অঙ্কুশ ভরদ্বাজকে সমস্ত দায়িত্ব থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তাঁকে নতুন কোনও দায়িত্ব দেওয়া হবে না।”
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একাধিক তদন্তকারী দল গঠন করে সিসিটিভি ফুটেজ, কল ডিটেইল রেকর্ড, যাতায়াত সংক্রান্ত তথ্য সহ সমস্ত ফরেনসিক ও ইলেকট্রনিক প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, হোটেল কর্মী ও ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের বয়ানও রেকর্ড করা শুরু হয়েছে। পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, অভিযোগগুলি অত্যন্ত গুরুতর এবং সমস্ত প্রমাণ সুরক্ষিত রেখে দ্রুত অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
