এনডিটিভি-তে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি চলাকালীনই এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার কথা সামনে আনেন প্রধান বিচারপতি৷ তিনি বলেন, ‘কেউ একজন আমার ভাইকে ফোন করে প্রশ্ন করছেন আমি কী করে এই ধরনের রায় দিলাম৷ এর পর কেন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার প্রক্রিয়া শুরু হবে না?’
হরিয়ানা সরকারের আইনজীবীর উদ্দেশ্যেও প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘ওনার এত সাহস যে আমার ভাইকে ফোন করে প্রশ্ন করছেন প্রধান বিচারপতি কী করে এ রকম নির্দেশ দিলেন৷ উনি কি আমাকে বলে দেবেন কী করতে হবে? আপনি বিষয়টি খতিয়ে দেখুন৷ আইনজীবী হিসেবে আপনার প্রথমে এই মামলা থেকে সরে দাঁড়ানো উচিত৷ ‘
advertisement
এর পরে কড়া হুঁশিয়ারির সুরে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘উনি যদি দেশের বাইরেও লুকিয়ে থাকেন তাহলেও আমি জানি কী করতে হয়৷ ভবিষ্যতে ভুলেও এই চেষ্টা আর করবেন না৷ গত ২৩ বছর ধরে আমি এ সব সামলে এসেছি৷’
সম্পর্কে ভাইবোন নিখিল কুমার পুনিয়া এবং একতা পুনিয়া সুপ্রিম কোর্টে আর্জি জানিয়ে বলেন, তাঁদের বৌদ্ধ সংখ্যালঘু কোটায় ওই কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য যোগ্যতা রয়েছে৷ যদিও বৌদ্ধ কোটায় আবেদনের আগে সাধারণ প্রার্থী হিসেবেই ওই কলেজে ভর্তির আবেদন জানিয়েছিলেন ওই দুই ভাইবোন৷ যদিও উত্তর প্রদেশ সরকারের একটি বিজ্ঞপ্তির পর তাঁদের ভর্তি আটকে যায়৷
এই মামলার শুনানি চলাকালীন সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, সরকারি ব্যবস্থার অপব্যবহার করা হচ্ছে৷ প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘নতুন ধরনের প্রতারণা শুরু হয়েছে৷ এর থেকে বেশি কিছু বলছি না৷’
সুপ্রিম কোর্ট প্রশ্ন তুলেছে সাধারণ শ্রেণিভুক্ত পুনিয়া জাঠ সম্প্রদায়ের পড়ুয়ারা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ার পরেও কীভাবে সংখ্যালঘু সার্টিফিকেট নিয়ে ফের মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারেন৷ কীভাবে এই ধরনের সার্টিফিকেট হিসারের এসডিও দিলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সুপ্রিম কোর্ট৷ এই ধরনের ঘটনায় সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে বলেও মন্তব্য করেছে শীর্ষ আদালত৷
একই সঙ্গে সংখ্যালঘু সার্টিফিকেট দেওয়ার গাইডলাইন জারি করার জন্য হরিয়ানার মুখ্যসচিবকে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট৷
