কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, লাদাখে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ গড়ে তুলে সব পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলক ও অর্থবহ আলোচনার পথ সুগম করতেই সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই লক্ষ্য পূরণের স্বার্থে এবং সব দিক বিবেচনা করে সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ওয়াংচুকের আটকাদেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি লাদাখের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছে কেন্দ্র।
advertisement
আরও পড়ুন: রোজ পরছেন, বলুন তো জুতোর পেছনে কেন থাকে এই ছোট্ট ‘ফিতে’? ৯৯% লোকজনই জানেন না এর আসল কাজ
সুপ্রিম কোর্টে সোনম ওয়াংচুকের মুক্তির জন্য আইনি লড়াইয়ের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন রাজ্যসভা সাংসদ বিবেক তঙ্খা৷ ওয়াংচুকের মুক্তির পর তিনি বলেন, ‘‘ভারত সরকার জাতীয় নিরাপত্তা আইনের অধীনে সোনম ওয়াংচুকের মুক্তির বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে, এতে আমি আনন্দিত। সোনমকে ২৬ সেপ্টেম্বর লাদাখে আটক করা হয়েছিল। তাঁর কর্মকাণ্ড ভুলভাবে বোঝা হয়েছিল। তিনি জলবায়ু পরিবর্তন ও হিমবাহ নিয়ে কাজ করা এক অনন্য ব্যক্তিত্ব এবং প্রকৃত দেশপ্রেমিক।’’
প্রসঙ্গত, লাদাখের ইঞ্জিনিয়ার, উদ্ভাবক ও শিক্ষা সংস্কারক সোনম ওয়াংচুককে ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালে লাদাখ পুলিশ আটক করে। লেহে লাদাখকে পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া এবং সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের অধীনে সুরক্ষা দেওয়ার দাবিতে চলা সহিংস বিক্ষোভের মাঝেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়৷
একটি সাংবাদিক সম্মেলনে যাওয়ার পথে তাঁকে আটক করা হয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা আইনের অধীনে মামলা করা হয়। অভিযোগ ছিল, সীমান্ত সংবেদনশীল এই অঞ্চলে অশান্তি উসকে দেওয়ার ঘটনায় তাঁর ভূমিকা রয়েছে। ওই সংঘর্ষে চারজনের মৃত্যু হয় এবং প্রায় ৯০ জন আহত হন। প্রশাসন তাঁকে এই ঘটনার “মূল উসকানিদাতা” হিসেবে বর্ণনা করেছিল।
তাঁকে আটকের পর ওয়াংচুকের স্ত্রী তাঁর আটকের আদেশকে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করেন৷ ২০২৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে এ বিষয়ে শুনানি হয়। কেন্দ্র সরকার আদালতে জানিয়েছিল, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এই আটকাদেশ সহায়ক হয়েছে এবং সব প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। প্রায় ১৪০ দিনেরও বেশি সময় ধরে সোনম ওয়াংচুক জোধপুর জেলে আটক ছিলেন।
