শিয়ালদহ-শান্তিপুর শাখার বাথনা কৃত্তিবাস হল্টে পাঁচটি নতুন ট্রেনের স্টপেজ চালু হচ্ছে। এতদিন এই সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পৌঁছতে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের মূলত সড়কপথের উপর নির্ভর করতে হত। সকাল ও বিকেলের ব্যস্ত সময়ে নতুন স্টপেজ চালু হওয়ায় শিক্ষার্থী এবং তীর্থযাত্রীদের জন্য কবি কৃত্তিবাস ওঝার জন্মভিটে দর্শন এখন আরও সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে স্থানীয় পর্যটন এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও উপকৃত হবেন।
advertisement
শিয়ালদহ-কৃষ্ণনগর শাখার জালালখালি হল্টেও ট্রেনের সংখ্যা বাড়ছে। এখানে অতিরিক্ত নয়টি ট্রেন থামবে। কলেজ ও স্কুলের সময়ের সঙ্গে মিল রেখে নতুন সময়সূচি তৈরি হওয়ায় ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াত আরও সহজ হবে। পাশাপাশি স্থানীয় কৃষি ব্যবসায়ীরাও দ্রুত পণ্য কৃষ্ণনগরের বাজারে পৌঁছে দিতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশরপাড়া কোদালিয়া স্টেশনেও ছয়টি নতুন স্টপেজ যুক্ত হয়েছে। অফিসযাত্রী ও পড়ুয়াদের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে শহরে কর্মস্থলে পৌঁছনোর ক্ষেত্রে সময় সাশ্রয় হবে এবং সড়কপথের যানজটের উপর নির্ভরতা কিছুটা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। এর প্রভাব আশপাশের স্থানীয় ব্যবসায়েও পড়বে বলে আশা।
অন্যদিকে হাওড়া-কাটোয়া শাখার ইসলামপাড়া স্টেশনে যুক্ত হয়েছে ২২টি নতুন ট্রেনের স্টপেজ। দীর্ঘদিন ধরে এখানকার বাসিন্দারা চিকিৎসা বা পড়াশোনার জন্য হাওড়া ও কলকাতায় যেতে নানা সমস্যার মুখে পড়তেন। নতুন এই স্টপেজ চালু হওয়ায় ইসলামপাড়া এখন গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এতে স্থানীয় বাণিজ্য ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদেরও সুবিধা হবে।
এই সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার মিলিন্দ দেউস্কর জানান, যাত্রীদের সুবিধা এবং নিরাপত্তাই রেলের প্রধান অগ্রাধিকার। নতুন স্টপেজগুলির মাধ্যমে শহরতলির মানুষের যাতায়াত আরও সহজ ও কার্যকর করা সম্ভব হবে। রেলের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে বলেই আশা করা হচ্ছে।
